shono
Advertisement
Vijay Hazare Trophy

নজির গড়ে সেঞ্চুরি রুতুরাজের, বিজয় হাজারেতে বঞ্চনার জবাব 'ব্রাত্য' সরফরাজেরও

বিজয় হাজারের অন্য ম্যাচে তাণ্ডব চালান হার্দিক পাণ্ডিয়াও।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 03:46 PM Jan 08, 2026Updated: 09:39 PM Jan 08, 2026

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একজন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। আরেকজন ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। রুতুরাজ গায়কোয়াড় এবং সরফরাজ খান। ছন্দে থাকা দুই ক্রিকেটারই 'অজানা' কোনও কারণে জাতীয় নির্বাচকদের মনজয় করতে পারেননি। এই বঞ্চনার জবাব তাঁরা দিয়েছেন বিজয় হাজারে ট্রফিতে (Vijay Hazare Trophy)। গোয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন রুতুরাজ। অন্যদিকে, নজির গড়ে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করেছেন সরফরাজ। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার গোয়ার বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ের সামনে পড়ে মহারাষ্ট্র। একটা সময় ৫২ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছিল তারা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে হাল ধরেন অধিনায়ক রুতুরাজ। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে ২০তম সেঞ্চুরি হাঁকান। ঘটনাচক্রে তাঁর কেরিয়ারে হাফসেঞ্চুরির (১৯) থেকে সেঞ্চুরির সংখ্যা বেশি। শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলে ১৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস।

সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে ৫০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে সবথেকে দ্রুত এই মাইলফলক স্পর্শ করে নজির গড়লেন রুতুরাজ। তিনি ৯৫ ইনিংসে এই মাইলফলক অতিক্রম করেছেন। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব ছিল পাকিস্তানের বাবর আজমের দখলে। তিনি ৯৭ ইনিংসে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে পাঁচ হাজারি ক্লাবের সদস্য হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গত দেন ভিকি ওস্তওয়াল এবং রাজবর্ধন হাঙ্গারগেকার। আটে নেমে ভিকি করেন ৫৩ রান। ন'নম্বরে নেমে রাজবর্ধন অপরাজিত থাকেন ১৯ বলে ৩২ রানে। শেষ পর্যন্ত গোয়াকে ২৫০ রানের লক্ষ্য দেয় মহারাষ্ট্র। জবাবে গোয়ার ইনিংস থামে ২৪৪ রানে।

এবার আসা যাক সরফরাজ খানের কথায়। তিনি প্রতিভাবান, কিন্তু 'বঞ্চিত'। প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রমাণ করেও জাতীয় দলে 'ব্রাত্য' থাকছেন। সম্প্রতি সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টি ট্রফিতেও সেঞ্চুরি করেছেন। লক্ষ্য অবিচল থেকে বিজয় হাজারেতেও দুরন্ত ছন্দে ব্যাট করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করে নজির গড়েছেন ২৮ বছরের তারকা। বিজয় হাজারেতে এটাই সবচেয়ে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। এই রেকর্ড আগে ছিল অতীত শেঠের নামে। ২০২০-২১ সালে বরোদার হয়ে ছত্তিশগড়ের বিপক্ষে ১৬ বলে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০ বলে ৬২ রানে আউট হয়ে যান সরফরাজ। তিনি রান পেলেও পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১ রানে হেরে যায় মুম্বই। গতকালই বিসিসিআইয়ের কাছে সম্পূর্ণ ফিট সার্টিফিকেট পাওয়া মুম্বই অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার করেন ৪৫। প্রথমে ব্যাট করে পাঞ্জাব করে ২১৬। জবাবে ২৬.২ ওভারে ২১৫ রানে অল আউট হয়ে যায় মুম্বই। পাঞ্জাবের হয়ে চারটি করে উইকেট পান মায়াঙ্ক মারকণ্ডে এবং গুরনুর ব্রার।

বিজয় হাজারের অন্য ম্যাচে তাণ্ডব চালান হার্দিক পাণ্ডিয়া। বিদর্ভের বিরুদ্ধে ১৩৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন। এবার বরোদার জার্সি গায়ে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে ১৯ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হার্দিক। স্ট্রাইক রেট ২৪১.৯৩। তাঁর ইনিংস সাজানো দু'টি চার, ন'টি ছক্কা দিয়ে। হার্দিক ছাড়াও প্রিয়াংশু মোলিয়ার ১১৩ এবং জিতেশ শর্মার ৭৩ রানে ভর করে ৩৯১ রান তোলে বরোদা। জবাবে চণ্ডীগড় ২৪২ রানে গুটিয়ে যায়। ব্যাটিংয়ের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পর বল হাতেও কামাল করেন হার্দিক। নেন তিনটি উইকেট। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ১০ ওভার বল করেছেন এই অলরাউন্ডার। নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাঁকে বাদ দেওয়ার নেপথ্যে জাতীয় নির্বাচকদের যুক্তি ছিল, তিনি এখনও ১০ ওভার বল বল করার জন্য প্রস্তুত নন। সেই হার্দিকই পুরো স্পেল বোলিং করে নির্বাচকদের বুঝিয়ে দিলেন, তিনি তৈরি। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • ছন্দে থাকা দুই ক্রিকেটারই 'অজানা' কোনও কারণে জাতীয় নির্বাচকদের মনজয় করতে পারেননি।
  • এই বঞ্চনার জবাব তাঁরা দিয়েছেন বিজয় হাজারে ট্রফিতে।
  • গোয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন রুতুরাজ। অন্যদিকে, নজির গড়ে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করেছেন সরফরাজ। 
Advertisement