ক্রিকেটের মতো ক্রিকেট-সংস্কার নিয়েও ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর বেশ কড়া। টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার ছাড়াও খেলাটার পারিপার্শ্বিকে ঘুরতে থাকা সংস্কারগত যে সমস্ত বিষয়-আশয় থাকে, তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেন তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের (India Win T20 World Cup) দিনও তার ব্যতিক্রম হল না। ট্রফি জিতেই আহমেদাবাদের হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে গেলেন টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ।
ভারতের বিভিন্ন শহরে যেসব জাগ্রত মন্দির বা দেবালয় রয়েছে, গম্ভীর নিয়ম করে সেখানে যান। পুজো-আচ্চা দেন। কলকাতায় গেলে কালীঘাট। মুম্বই গেলে সিদ্ধি বিনায়ক। গুয়াহাটি গেলে কামাখ্যা। অর্থাৎ, খেলার যে আচার সাফল্য-প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড় ভাবে জুড়ে থাকে, যা যা রেওয়াজ পালিত হয়, ভারতীয় কোচের কাছে তা সদা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বজয়ের রাতেও তেমন হনুমান মন্দিরে পুজো দিলেন।
মন্দিরের বাইরে প্রচুর পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা যায়, ট্রফি নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করছেন সূর্য। তাঁকে বজরংবলির পুজো করতে দেখা যায়। তাঁর গলায় ছিল গাঁদাফুলের মালা। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রসাদ খান তাঁরা। বাইরে এসে ছবিও তোলেন। মন্দিরের সেবাইত ঈশ্বর দাসের কথায়, "টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেটাররা ফাইনালের আগে মন্দিরে প্রার্থনা করেন। সেই সময় বলেছিলেন, ট্রফি জিতে আবার প্রার্থনা করতে আসবেন। বিশ্বকাপ জেতার পর তাঁরা মন্দিরে এসে প্রার্থনা করে গেলেন। ভারত বিশ্বকাপ জিতেছে বলে আমরা খুব খুশি।"
উল্লেখ্য, গম্ভীর যাঁদের বিশ্বজয় উৎসর্গ করে গেলেন, তাঁরা ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহীরূহ। প্রথমজন, কোচের চেয়ারে গম্ভীরেরই পূর্বসূরি রাহুল দ্রাবিড়! দ্বিতীয় জন, জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ! ভারতীয় ক্রিকেটের সাপ্লাইলাইন সরবরাহের দায়-দায়িত্ব যাঁর হাতে। কিন্তু কতটা ছিল দ্রাবিড়ের জুতোয় পা গলানো? এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিশ্বজয়ী হয়েছিল ভারত। তাই গম্ভীর কোচ হয়ে আসার পর তাঁর সামনে সাফল্য শর্ত একটাই ছিল, বিশ্বকাপ জিততে হবে।
