একটা দেশ বিশ্বকাপ 'বয়কট' করেছে। আরেকটা দেশ ভারত ম্যাচ 'বয়কট' করতে চেয়েছিল। আর দু'দেশ থেকেই অনেকে চেয়েছিলেন ভারতের পতন। নতুন করে বলার দরকার নেই যে দু'টো দেশ হল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। কিন্তু না, লাভের লাভ হয়নি। টিম ইন্ডিয়া ফের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে (T20 World Cup Champion India)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফাটছে বাজি, চলছে উৎসব। আর তখন প্রতিবেশী দুই দেশের অনেকেরই মনখারাপ। তাঁদের মধ্যে ক্রিকেটাররাও আছেন। ভারতের বিশ্বজয় নিয়ে কী বলছেন পাকিস্তানের শোয়েব আখতার, মহম্মদ আমির বা বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমরা?
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভারতে আসতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। বহুবার কথাবার্তা বলা সত্ত্বেও তাদের রাজি করানো যায়নি। অনেকে মনে করেন, এটা পূর্ববর্তী মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক চাল। অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সামনে রেখে 'ভারত বিরোধিতা' করেছে পাকিস্তানও। মহসিন নকভির পাক বোর্ড ভারত ম্যাচ বয়কটের নাটক করেছিল। পরে অবশ্য ম্যাচ খেলে এবং হারে। তবে মহম্মদ আমিরের মতো প্রাক্তনীরা বারবার বলে যাচ্ছিলেন, ভারত চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না।
ঝড়ে কাক মরেনি! ভারত টানা দু'বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে একপেশে ভাবে উড়িয়ে দিয়েছে। তাতে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শোয়েব আখতার বলে ফেললেন, "ব্যাপারটা এমন হয়েছে, পাশের বড়লোক বাড়ির ছেলেটা গরিব ছেলেকে ডেকে বলছে, আয় ক্রিকেট খেলবি। ভারত সেই বখাটে ছেলের মতো করছে। প্রথমে চারজনকে ডাকবে, তারপর তিনজনকে ডাকবে। সব শেষে বলবে দেখ, জিতে গেলাম। ওরা ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিয়েছে।"
অন্যদিকে পাকিস্তানের আরেক 'জ্যোতিষী' মহম্মদ আমির ভারতের জয়ের পর মেজাজ হারালেন। তিনি বারবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ভারত চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না। কিন্তু এবারও তা ব্যর্থ হল। তারপর আমির বলছেন, "ওরা জিতেছে। মিটে গেল। ট্রফি ওরা ঘরে নিয়ে যাবে। আমার বাড়িতে তো নিয়ে আসবে না।" তবে সেখানে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ভারতের প্রশংসাই করেছেন। তিনি লেখেন, 'অভিনন্দন টিম ইন্ডিয়া। তোমরা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছ।' তবে এই পোস্টে অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ১০ বছর আগে ভারত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন মুশফি।
