অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব, অনবদ্য! আর ঠিক কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় বৈভব সূর্যবংশীকে? প্রতিপক্ষ থ, ক্রিকেটদুনিয়ার চোখ ছানাবড়া। আর ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গর্ব। আইপিএলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ১৪ বছরের কিশোর এখন বিশ্বজয়ী। ফাইনালে খেলেছে ১৭৫ রানের ইনিংস। কিন্তু তাতে কী? আসলে তো বাচ্চাই। ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পর যে কাজটা করল, তা মুহূর্তে ভাইরাল। অবশ্য তারপর সতীর্থদের সঙ্গে যেভাবে নেচে উঠল, তাও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে বেশিক্ষণ সময় লাগল না।
তার নামের পাশে ৮০ বলে ১৭৫। পকেটে ১৫টি চার, ১৫টি ছয়। আউট হওয়ার পর বিপক্ষ ক্রিকেটাররাও হাত মিলিয়ে গেল। উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিল গোটা স্টেডিয়াম। সত্যিই তো, এরকম ইনিংস কি আর দেখা যাবে! যার সৌজন্যে ভারত তুলল বিরাট ৪১১ রানের পাহাড়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতল ১০০ রানে। তারপরই বাবাকে ফোন ১৪ বছরের বিস্ময় প্রতিভার। সবার আগে বলল, 'বাবা, প্রণাম।' বাবা-মায়ের প্রতি ভক্তিই যে বৈভবকে বড় মানুষ করে তুলবে, সেরকমই আলোচনা নেটপাড়ায়।
তারপর অন্য রূপে দেখা গেল বৈভবকে। সতীর্থদের সঙ্গে নাচে-গানে মাতিয়ে দিল সে। প্রথমে চলছিল পাঞ্জাবি গান। কিন্তু তাতে আপত্তি! ইনস্টাগ্রামে লাইভ ভিডিওয় সে বলে, "পাঞ্জাবি বুঝি না। এবার ভোজপুরি গান চলবে।" এরপর জনপ্রিয় ভোজপুরি গান বাজিয়ে উদ্দাম নাচ বিহারের কিশোরের। যা দেখে নেটিজেনরাও গাইছে, 'জিয়ে হো বিহার কা লালা।'
বিশ্বকাপজয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেছেন, "গোটা দেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নিয়ে গর্বিত। ফাইনালে অসাধারণ ভাবে ইংল্যান্ডকে যে ভাবে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে। গোটা প্রতিযোগিতায় অপরাজিত।" ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লিখেছেন, 'ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা উজ্জ্বল। আমরা বিশ্বকাপজয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নিয়ে গর্বিত। পুরো প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলেছে। এই জয় তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে। আগামী দিনের জন্য ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা।'
