টানাপোড়েন শেষে কেরলমের মুখমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হল ভি. ডি. সতীশনকে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জেরবার কংগ্রেস কুর্সি টেকাতে পারবে!
গত ৪ মে চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয়েছে। তারপর কেটে গিয়েছে ১০ দিন। সমস্ত রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মুখ্যমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করে পুরোদস্তুর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ব্যতিক্রম কেরলম। দলীয় কোন্দল, নানা ঘাত-প্রতিঘাতে মুখ্যমন্ত্রী পদে নাম চূড়ান্তই করতে পারছিলেন না হাইকমান্ড। অবশেষে ১০ দিনের বিস্তর নাটক ও টানাপোড়েন শেষে ভি. ডি. সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে সতীশনের নাম ঘোষণা করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা কেরলমের দায়িত্বপ্রাপ্ত দীপা দাশমুন্সি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন, মুকুল ওয়াসনিক এবং জয়রাম রমেশ। গত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সতীশন ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন কংগ্রেস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. বেণুগোপাল এবং বর্ষীয়ান নেতা রমেশ চেন্নিথালা।
পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে ক্ষমতা দখল করেছে সর্বভারতীয় দল বিজেপি। এই দুই রাজ্যে কারা মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সেটা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে সেখান থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। এভাবে রাজধানী দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নাম ঘোষণা করতে হয়নি। তাহলে কি রাজ্যে নাম ঘোষণা করতে গিয়ে কোনও বিড়ম্বনায় পড়ার আশঙ্কা ছিল? কারণ, কংগ্রেস পরিষদীয় দল বেণুগোপালের নাম প্রস্তাব করেছিল বলে আগে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু বিধায়কদের একাংশ আবার সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি জানান।
দিল্লিতে সতীশনের নাম ঘোষণা করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা কেরলমের দায়িত্বপ্রাপ্ত দীপা দাশমুন্সি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন, মুকুল ওয়াসনিক এবং জয়রাম রমেশ।
তাঁদের যুক্তি ছিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইউডিএফ এবং কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলকে জয়ের রাস্তায় ফিরিয়েছেন সতীশনই। দলের নিচুতলার কর্মীদের কাছেও তাঁর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। সে-তুলনায় সংগঠনে ও কর্মীদের কাছে বেণুগোপাল অনেক দূরের গ্রহ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বাছতে গিয়ে যেভাবে কংগ্রসকে এত কাঠখড় পোড়াতে হল, বাকি ৫ বছর কী হবে, ভাবলে আতঙ্ক হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী বাছাই হলেও সতীশন কবে শপথ নেবেন, জানানো হয়নি। তারপর মন্ত্রিসভা গঠন এবং রূপরেখা তৈরি করে রাজ্য শাসন পর্ব। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জেরবার কংগ্রেস প্রথম থেকেই হোঁচট খেতে শুরু করেছে। দলের পক্ষে বিপুল জনাদেশ পেলেও তা যদি কাজে লাগাতে না পারে, তাহলে কংগ্রেসের সমূহ বিপদ। কারণ, দেশের সর্বাধিক শিক্ষিত রাজ্যের মানুষ প্রতি পাঁচ বছর পর ক্ষমতার পাশা উল্টে দিতেই অভ্যস্ত। তার উপর সারা দেশে ক্ষয়িষ্ণু হলেও কেরলমে বাম দলগুলির ক্ষমতা ও ভোটার যথেষ্ট। তারা ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া চেষ্টা করবে। ধীরে হলেও দক্ষিণের এই রাজ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ তথা বিজেপির প্রভাব বাড়ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বাছাই হলেও সতীশন কবে শপথ নেবেন, জানানো হয়নি। তারপর মন্ত্রিসভা গঠন এবং রূপরেখা তৈরি করে রাজ্য শাসন পর্ব। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জেরবার কংগ্রেস প্রথম থেকেই হোঁচট খেতে শুরু করেছে।
স্বভাবতই গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে স্বচ্ছ প্রশাসন, উন্নত পরিষেবা দেওয়ার কাজ শুরু করা উচিত কংগ্রেসের। কিন্তু যে শম্বুক গতিতে মুখ্যমন্ত্রী বাছল শতাব্দীপ্রাচীন রাজনৈতিক দলটি, তাতে তাদের জরা এবং রুগ্ম দশাই যেন প্রকট হয়ে উঠল।
