পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কি সত্যিই থামবে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ? উত্তরটা মিলে যেতে পারে কয়েকদিনের মধ্যেই। ইসলামাবাদের মাধ্যমেই উভয়পক্ষ বার্তা আদানপ্রদান করছে। এমনকী আগামী দিনে পাকিস্তানের মাটিতে আলোচনার টেবিলে বসতে পারে বিবদমান দুই দেশ– একথা জনিয়েছেন খোদ পাক প্রধানমন্ত্রী। আপাতত যা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। পাশাপাশি উঠে আসছে একটা অন্য প্রশ্ন। চিন-রাশিয়া নয়, কেন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ পাকিস্তান?
ইসলামাবাদের আসলে বেশ কিছু স্বার্থ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ফ্যাক্টর সীমান্তরেখার সমস্যা। আফগানিস্তানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মেতেছে দুই দেশ। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে হাতে রাখা পাকিস্তানের একান্তই প্রয়োজন। অন্যথায় ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা আরও বাড়বে। এদিকে পাকিস্তানের প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানির ৯৯ শতাংশই আসে কাতার থেকে। এমতাবস্থায় ওমানে ইরানের হামলার ঘটনায় সেই জোগান একেবারে থমকে গিয়েছে। পেট্রল পাম্পের মালিকরা এখন থেকেই জ্বালানি জমা করতে শুরু করেছেন। পেট্রলের খরচ বেড়েছে ২০০ শতাংশ। আগামিদিনে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। তাই দ্রুত যুদ্ধ থামাতে মরিয়া পাকিস্তান।
ইসলামাবাদের আসলে বেশ কিছু স্বার্থ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ফ্যাক্টর সীমান্তরেখার সমস্যা। আফগানিস্তানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মেতেছে দুই দেশ। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে হাতে রাখা পাকিস্তানের একান্তই প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গে, অবশ্যই এসে পড়ে ভারতের প্রসঙ্গও। ইরান ভারতের 'বন্ধু'। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের মাঝখানে এসে পড়ার একটা সুযোগও পাচ্ছে পাকিস্তান। যুদ্ধ থামাতে তাদের সদর্থক ভূমিকা পালনে তারা বন্ধু হয়ে গেলে ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে ভাটা পড়তে পারে- এরকম একটা সুপ্ত বাসনাও কি পাকিস্তানের মনে নেই? তাই রাশিয়া কিংবা চিনের জায়গা নিয়ে তারাই নেমে পড়েছে যুদ্ধ থামাতে।
কিন্তু এর উলটো দিকও রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাতে হলেও, যুদ্ধ থামলে ভারতেরও লাভ। রাজনীতিতে দীর্ঘ সমীকরণ ছাড়া বন্ধু বা শত্রু পালটে যায় না। তাই যুদ্ধ থামিয়ে ইরানের 'গলার মালা' হয়ে পাকিস্তান ভারতের থেকে তাদের বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে যাবে এমনটা ভাবাও অর্থহীন, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
