সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কিয়েভ-সহ ইউক্রেনের (Ukraine) বিভিন্ন অংশে নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে পুতিন-বাহিনী। দু’দিন আগে জেলেনস্কির (Volodymyr Zelensky) দেশে একদিনে ৭৫টি মিসাইল হামলা চালিয়েছে তারা। যাতে হতাহত হয়েছেন বহু মানুষ। ভয়ে শিউড়ে ওঠার মতো হামলার দৃশ্য ভেসে উঠেছে ইউক্রেনের এক তরুণীর ভিডিও মেসেজে (Video Massage)। ঘটনার সময় তরুণী কিয়েভ শহরের যেখানে ছিলেন তার পাশেই একটি বাড়িতে তীব্র বিস্ফোরণ হয়। তরুণী বেঁচে গেলেও তাঁর মুখে ভয়ংকর আতঙ্কের ছাপ লেগে রয়েছে। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিওটি।
ওই দিন আত্মীয় বা বন্ধুকে মেসেজ করবেন বলে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই ভিডিও রেকর্ড করছিলেন ওই তরুণী। আচমকা রুশ হামলা (Russia Attack) হয়। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। তীব্র আলোর ঝলকানি দেখা যায় তরুণীর মুখে। ওই আলোর ঝলকানিতে সে স্থির থাকতে পারছিল না। মাথা নিচু করে নিজেকে কোনওমতে বাঁচানোর চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে তাঁর চোখ কপালে ওঠে।
[আরও পড়ুন: তাঁর হাত ধরেই শুরু হিজাব বিরোধী আন্দোলন, অভিযোগ ছাড়াই জেলবন্দি ইরানের মহিলা সাংবাদিক]
সম্প্রতি এই ভিডিওটিই ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়। কিয়েভের ঠিক কোথায় এই হামলা হয় তা জানা যায়নি। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম নেক্সটা (NEXTA) ভয়ংকর ভিডিওটি আপলোড করে। যেটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়। গোটা পৃথিবীর মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে চমকে যান। রুশ হানার মধ্যে ইউক্রেনের মানুষ কেমন আছেন, আরও একবার তা স্পষ্ট হয়েছে এই ভিডিওতে।
উল্লেখ্য, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সওয়া আটটা নাগাদ ইউক্রেনে (Ukraine) হামলা চালায় রাশিয়া। কিয়েভ ছাড়াও ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরে হানাদারি চালায় রাশিয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, সারা শহরে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নানা প্রান্তে লাগাতার বিস্ফোরণ ঘটে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই হামলার ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা কত, তা নিয়ে ইউক্রেনের তরফে বিশদে কিছু জানানো হয়নি।
[আরও পড়ুন: তালিবানের বুলেটে খসেছিল মাথার খুলির একাংশ, ১০ বছর পরে মালালা ফের পাকিস্তানে]
এদিকে ইউক্রেনে নতুন করে রুশ হামলায় বিবৃতি দিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। এরপর রাষ্ট্রপুঞ্জে রাশিয়া-বিরোধী প্রস্তাবে ভোট দিয়েছে নয়াদিল্লি (New Delhi)। অন্যদিকে আজ অস্ট্রেলিয়ায় সফরে থাকা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jayshankar) বলেছেন, “যে ভাবে নিরীহ মানুষের প্রাণ নেওয়া হচ্ছে এবং পরিকাঠামোগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে, তা বিশ্বের কোনও দেশই মেনে নেবে না।”