অসুখময় দাম্পত্য জীবন নিয়ে জেরবার সেলিনা জেটলি। সাম্প্রতিককালে বারবারই উঠে এসেছেন খবরে। এরই মাঝে সোশাল মিডিয়ায় নিজের একটি ফোটো পোস্ট করেন তিনি। ফোটোতে তাঁর ত্বকের ঔজ্জ্বল্য রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। সেলিনা জানাচ্ছেন, এই সবই তাঁর ভারতীয় ঠাকুরমার টোটকার কামাল! বিগত ২১ দিন ধরে ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত গোঁদ কাতিরা (gond katira) খেয়েছেন, আর তাতেই এমন লাবণ্য তাঁর চেহারায়!
মিছরির মতো দেখতে গোঁদ কাতিরা রাতভর ভিজানোর পর থকথকে জেলির আকার ধারণ করে
গোঁদ কাতিরা কী?
তারকা অভিনেত্রীর পোস্টের পরেই নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা অবশ্য দীর্ঘদিনই এই বিশেষ প্রাকৃতিক ‘স্কিনকেয়ার এলিমেন্ট’ জুড়ে নিয়েছেন খাদ্যতালিকায়। এটি গাছের গায়ে জন্মানো এক বিশেষ ধরনের আঠা, যা খাবার হিসেবে গ্রহণ করা চলে। মিছরির ছোট খণ্ডের মতো দেখতে এই ন্যাচারাল রেজিন সরাসরি খাওয়া যায় না। আগে তা রাতভর ভিজিয়ে রাখতে হয় জলে। সকালে তা দেখতে একেবারে নরম থকথকে জেলির মতো হয়ে যায়। এমনিতে তেমন স্বাদ নেই; লেবুজল, দুধ, স্মুদি অথবা ফালুদার মধ্যে মিশিয়ে গোঁদ কাতিরা খাওয়া যায়। সামান্য পরিমাণে ভেজালেই, তা ফুলে উঠে অনেকখানি হয়ে যায়। এমনিতেও একেবারেই স্বল্প পরিমাণে খেতে হয় এই খাবার। নইলে হীতে বিপরীত হতে পারে।
কীভাবে তা শরীরের কাজে লাগে?
১। অনেকেই গ্রীষ্মকালে নিয়মিত গোঁদ কাতিরা খেয়ে থাকেন, কারণ এই প্রাকৃতিক ‘কুলার’ ভিতর থেকে শরীরকে ঠান্ডা করে। ফলে সূর্যের তাপের কারণে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, তার সম্ভাবনা কমে।
২। শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকে। ঝরঝরে লাগে সারাদিন পরেও। হিটস্ট্রোক সহজে হতে পারে না।
৩। এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম থাকে। নিয়মিত খেলে কোলাজেন উৎপাদন হয় শরীরে। ফলে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।
আপাত-বিস্বাদ এই ভোজ্য রেজিন দিয়ে বানানো যায় নানা ধরনের পানীয়
৪। হজম সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে। কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না।
৫। অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি পায়। ফলে চট করে ঠান্ডা লাগে না, কাশিসর্দি হয় না।
তবে ভুলে গেলে চলবে না যে, কোনও খাবারেই ম্যাজিক নেই! শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখতে গেলে গোঁদ কাতিরা সেবনের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। খাওয়া উচিত পরিমিত খাবার। কেবলমাত্র সঠিক জীবনধারাই ত্বকের আসল উজ্জ্বলতা ফেরাতে পারে।
