তখনও ঝড় ওঠেনি। ঘুমঘুম থমথমে ভাব। হঠাৎই আকাশ ফাটা ঝিলিক। ব্যস, খইয়ের মতো ফুটতে থাকল বৃষ্টি। সঙ্গে প্রবল ঝড়... স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালের এল ক্লাসিকো অনেকটা এমনই ছিল। প্রথম আধঘণ্টা দেখে মনে হয়নি এমন ঝড় অপেক্ষা করছে। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে 'চিরশত্রু' রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখল বার্সেলোনা।
ভারতীয় সময় মধ্যরাতে খেলা। যেভাবে ম্যাচ চলছিল, তাতে ঢুলুনি আসতে বাধ্য। কিন্তু কথায় আছে, সন্ধেবেলায় দীপ জ্বালানোর আগে সকালে সলতে পাকাতে হয়। ম্যাচের বয়স যখন ৩৬ মিনিট, বার্সেলোনার প্রথম প্রদীপ জ্বলে উঠল ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহার গোলে। কিন্তু তখনও যেন নাটক বাকি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল হল তিনটি! ৪৭ মিনিটে (৪৫+২) ডি বক্সে ঢুকে বার্সার দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অনবদ্য গোল করে গেলেন ভিনসিয়াস জুনিয়র। সমতায় ফিরল রিয়াল। দু'মিনিট পরেই পেদ্রির পাস থেকে নিখুঁত গোল লেয়নডস্কির। এগিয়ে যায় বার্সা। তিন মিনিটের মধ্যে গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে আবারও সমতায় ফিরল 'লস ব্লাঙ্কোস'রা। একুশ শতকে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে প্রথমবার প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তিন গোল দেখলেন ফুটবলপ্রেমীরা। পরতে পরতে চরিত্র বদলানো থ্রিলারের 'ইন্টারভালে' স্কোরলাইন রইল ২-২।
প্রথমার্ধের শেষ লগ্নে যেভাবে উত্তেজনার পারদ চড়েছিল, দ্বিতীয়ার্ধে সেই ঝাঁজ কিছুটা হলেও উধাও। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমে উঠলেও কোনও দলই গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ৭১ মিনিটে ১০ গজ দূর থেকে ইয়ামালের শট বাঁচিয়ে দেন কোর্তোয়া। এর ঠিক এক মিনিট পরেই তৃতীয় গোলের দেখা পায় কাতালানরা। বলা চলে একক নৈপুণ্যে বার্সাকে এগিয়ে দেন রাফিনহা। বক্সের ভিতর স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের শট আসেন্সিওর পায়ে লেগে রিয়ালের জালে জড়িয়ে যায়। এই নিয়ে বার্সেলোনা হয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে ৭টি গোল পেলেন রাফিনহা।
এরপর বেশ কিছু সুযোগ পেলেও বার্সা গোলরক্ষক অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠায় সমতায় ফিরতে পারেনি রিয়াল। তবে ৯০ মিনিট পেরনোর পরেও উত্তেজনা চরমে ওঠে। জয়ে প্রায় দোরগড়ায় থাকা বার্সা মিডফিল্ডার কিলিয়ান এমবাপেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন। তাতে অবশ্য কিছু ক্ষতি হয়নি তাদের। হ্যান্সি ফ্লিকের কোচিংয়ে চতুর্থ ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। আরও একটা নজির হল, কোচিং কেরিয়ারে আটটি ফাইনালের সবক'টিতে জিতলেন এই জার্মান কোচ। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে ১৬ বার স্প্যানিশ সুপার কাপের খেতাব জিতল বার্সেলোনা। ৬৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছিলেন কাতালানরা। ১৬ বার গোলমুখী শট নিয়েছিল তারা। এরমধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, ১২টি গোলমুখী শটের মধ্যে ১০টি লক্ষ্যে রেখেছিল রিয়াল।
