আমেরিকায় বসেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের আসর। যে মহাযজ্ঞের আঁচ ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতাতেও। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে রাত জেগে গলা ফাটাচ্ছেন টলিপাড়ার তারকারাও। তার মাঝেই 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' নিয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা জানালেন সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে। আজ কলম ধরলেন সৌরভ দাস।
গোটা বিশ্ব যখন বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) উন্মাদনায় ফুটছে, তখন আমরা 'অভিমান' রিলিজের প্রাক্কালে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এই তো সেদিনও একদিকে অভিমান-এর কাজ চলছে, আরেকদিকে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ, এভাবেই ব্যালেন্স করতে হচ্ছে। ১৯ তারিখ 'অভিমান' রিলিজ করে গেলে তখন ভালো করে বিশ্বকাপে মন দিতে পারব। তবে 'বিশ্বকাপ জ্বর' বলতেই মনে পড়ে যায় আমার শৈশবের কথা। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিক। ছোটবেলায় তখন বাটানগরে থাকতাম। সেসময়ে সবার বাড়িতে টিভি ছিল না। যে পাড়ায় থাকতাম, সেই এলাকার একটা বাড়িতেই শুধু টিভি ছিল। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে সেই জানলা দিয়ে টিভি দেখতাম আমরা। রাত সাড়ে বারোটা হোক কিংবা গভীর রাত, বিশ্বকাপ দেখার জন্য বাবা আমাকে নিয়ে যেতেন। আমরা দু'জনেই জানলার বাইরে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতাম। আর ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এহেন উন্মাদনা আমার বাবার থেকেই পাওয়া। তার পর থেকে নিয়মিত শুধু ফুটবল বিশ্বকাপ কেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ বা যে কোনও বড় টুর্নামেন্ট দেখা শুরু করি। তারপর আরেকটু বড় হয়ে ফুটবলের প্রতি এমন প্রেম জাগল যে যাদবপুরের ক্যাফেতে বা বাড়িতে পিএসফাইভ খেলতাম। সেই থেকেই ফুটবলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাওয়া। দীর্ঘ অনেক বছর ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের টিমের গোলকিপার ছিলাম। তারপর 'ক্যাপ্টেন' হই।
এখনও মনে পড়ে, ২০১০ সালের বিশ্বকাপে স্পেন যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেদিন আমি আর আমার এক বন্ধু গোটা পর্ণশ্রীতে স্পেনের ডিভেড ভিয়ার জার্সি পরে ঘুরেছিলাম।
'এবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হাতে বিশ্বকাপ উঠুক', চাইছেন সৌরভ দাস।
আমি আবার একটা অদ্ভূত দেশের ফ্যান! আমি স্পেনের ভক্ত। যে দেশের ফুটবল টিমের সমর্থক খুব একটা নেই। এতটাই অন্ধ ভক্ত যে আমার এখনও মনে পড়ে, ২০১০ সালের বিশ্বকাপে স্পেন যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেদিন আমি আর আমার এক বন্ধু গোটা পর্ণশ্রীতে স্পেনের ডিভেড ভিয়ার জার্সি পরে ঘুরেছিলাম। এবারও আমি স্পেনকেই সমর্থন করছি। কিন্তু এবার একটুখানি বেশিই পর্তুগালের দিকে ঝুঁকে রয়েছি। কারণ কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর এটাই শেষ বিশ্বকাপ। শেষ সুযোগ। আগেরবার যেমন মেসির হাতে উঠেছিল। আমি চাইব এবার পর্তুগাল বিশ্বকাপটা জিতুক। যাতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হাতে বিশ্বকাপ ওঠে। কারণ ও সব দিক থেকে এই কাপ জেতার যোগ্য। প্রতিবার বিশ্বকাপের প্ল্যান বলতে, আমার ফোকাস থাকে ভালো ম্যাচগুলোর দিকে। কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সেগুলি দেখা। এর আগেও ইন্ডাস্ট্রির ক'জন বন্ধুর সঙ্গে রাত জেগে ম্যাচ দেখেছি। যিশুদা (সেনগুপ্ত) আবার অতটাও ফুটবল ফ্যান নন। তাই 'অভিমান'-এর কাজ সামলে আমাদের একসঙ্গে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা হবে কিনা, জানি না।
