সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্য পথ মুখরিত হবে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজে। দেশের শৌর্য, গৌরব ও বীরত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী। বিভিন্ন রেজিমেন্টের কুচকাওয়াজে মুখরিত হবে ২৬ জানুয়ারি। এর মধ্যে রয়েছে অসম রেজিমেন্টের গান, 'বদলুরাম কা বদন।' (Badluram ka Badan) ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল গানের সঙ্গে সঙ্গে অসম রেজিমেন্টের নাচ। কিন্তু কে এই বদলুরাম? কেন তাঁকে নিয়ে তৈরি গান আজও গায় ভারতীয় সেনা? আর এই গানের সঙ্গে ইংল্যান্ডের ফুটবল ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সম্পর্কই বা কোথায়?
বদলুরামকে জানতে হলে ফিরে যেতে হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ভারত তখনও ইংরেজদের পদানত। ব্রিটিশদের হয়ে লড়তে হচ্ছে ভারতীয়দের। বদলুরাম ছিলেন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির অসম রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটেলিয়নের রাইফেলম্যান। জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নাগাল্যান্ডের কোহিমায় সম্মুখ সমরে ছিলেন তিনি। সেই যুদ্ধে প্রয়াত হন বদলুরাম। কিন্তু কোয়ার্টার মাস্টার কন্দর্প রাজবংশী রেশনের তালিকা থেকে তাঁর নাম কাটেননি। ফলে বদলুরামের নামে আসা রেশন জমতে থাকে। এরপর যখন জাপানি সৈন্য কোহিমা ঘিরে ফেলে, তখন সেই বাড়তি রেশনই সেনাবাহিনীকে সাহায্য করে।
অর্থাৎ প্রয়াত হয়েও বদলুরাম ভারতের সেনাদের সাহায্য করে গিয়েছেন। যা নিয়ে ১৯৪৬ সালে গান বাঁধেন মেজর এম. টি. প্রক্তোর- 'বদলুরাম কা বদন'। যার লিরিক্সের বঙ্গানুবাদ- 'বদলুরামের শরীর মাটির নীচে। তাই আমরা ওর রেশন পাই।' এই গানের সুর অনুপ্রাণিত আমেরিকার অভিবাসী 'জন ব্রাউনের দেহ' গানটি থেকে। উনিশ শতকে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় এই গানটি তৈরি হয়েছিল। তবে সেই গানের লিরিক্সেও বদল আসে।
আর এই গানের সুর থেকে অনুপ্রাণিত হয় আরও একটি গান। যা ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ভক্তদের থিম সং। গানটি হল- 'গ্লোরি গ্লোরি ম্যান ইউনাইটেড'। ১৯৮৩ সালের এফএ কাপ ফাইনালের আগে থেকে এই গানটি গাওয়া শুরু হয়। যা আজও ওল্ড ট্র্যাফোর্ড স্টেডিয়ামে ধ্বনিত হয়। যদিও ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের আগে লিডস ইউনাইটেড ও টটেনহ্যাম হটস্পারও এই সুরে নিজেদের গান বানিয়ে ছিল। কোথায় আমেরিকার যুদ্ধসঙ্গীত, কোথায় ভারতের এক সেনার উদ্দেশে তৈরি গান আর ইংল্যান্ডের ফুটবল ক্লাবের স্লোগান- গানের সুরে মিলে যায় গোটা দুনিয়া।
