সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসাবে ১০০০ পয়েন্ট। টানা দুবার লিগ শিল্ড জয়। তাও আবার রেকর্ড ৫৬ পয়েন্টে। উৎসবের মেজাজে মোহনবাগানের সেই সাফল্য উদযাপন করলেন হাজার হাজার সবুজ-মেরুন সমর্থক। অথচ সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ব্রাত্য করে রাখা হল খোদ রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীকে। মোহনবাগানকে যাবতীয় পুরস্কার তুলে দিলেন একা এআইএফএফ সভাপতি। রাজ্যের মন্ত্রী তো বটেই এফএসডিএল কর্তারাও লিগ শিল্ডের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না।

যুবভারতীতে বড় কোনও খেলা হলে সাধারণত রাজ্যের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়। অতীতে একাধিকবার সেই নজির দেখা গিয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনেও আমন্ত্রণ পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও অতীতে বহু খেলায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অথচ নজিরবিহীনভাবে শনিবার মোহনবাগানের লিগ জয়ের ম্যাচে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী বা রাজ্যের তরফে অন্য কোনও প্রতিনিধিকে ডাকা হল না। স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকে এর নেপথ্যে রাজনীতিরও গন্ধ পাচ্ছেন।
তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক কেন অরূপ বিশ্বাসকে ব্রাত্য রেখে কল্যাণ চৌবেকে এতো প্রাধান্য দেওয়া হল? কুণালের পোস্ট, 'ISL লিগ শিল্ড জয়ের জন্য মোহনবাগানকে অভিনন্দন। কিন্তু এটা কী? কেন শুধু এআইএফএফ সভাপতিকে (৬২,০০০ ভোটে মানিকতলায় হারা) দিয়ে সব মেডেল, চেক, শিল্ড দেওয়ানো হল? এটা FSDL-এর প্রতিযোগিতা। তাঁদের কর্তা/কর্ত্রী কোথায়? বাংলার ক্রীড়ামন্ত্রীকে কেন রাখা হল না? কোন চাপে শুধু AIFF সভাপতিকে প্রমোট করা হল?"
কুণালের প্রশ্ন, "বাংলায়, কলকাতায় খেলা। অথচ ক্রীড়ামন্ত্রী শিল্ড দেবেন না? তীব্র প্রতিবাদ রইল।" একা কুণাল নন, এ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই সরব। সকলের প্রশ্ন, খেলার মঞ্চে রাজ্যের প্রতিনিধিদের ব্রাত্য করে রাখার নেপথ্যেও কি রাজনীতির অঙ্ক কাজ করছে?