বেঙ্গল সুপার লিগে এবারের সেমিফাইনাল পর্ব শুরু হল। চার দল ডাবল লেগে সেমিফাইনাল খেলল বুধবার। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা দল জেএইচআর রয়্যাল সিটি এফসি প্রথম লেগের সেমিফাইনালে ০-১ গোলে হেরে গেল লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা দল নর্থ চব্বিশ পরগনা এফসি'র কাছে। একই দিনে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স উপভোগ্য ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে পরাস্ত করল সুন্দরবন বেঙ্গল অটো এফসি-কে।
ইস্টবেঙ্গল মাঠে রয়্যাল সিটি এবং নর্থ চব্বিশ পরগনা দুই দলই উজ্জীবিত শুরু করে। এই ম্যাচে সন্তোষ ট্রফি খেলতে যাওয়ার জন্য জেএইচআর পায়নি তারকা স্ট্রাইকার রবি হাঁসদাকে। তবে তাতে তাদের খেলার ধার কমেনি। নর্থ চব্বিশ পরগনাও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল। তবে কোনও পক্ষই কোনও গোল না করায় প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। দ্বিতীয়ার্ধে নর্থ চব্বিশ পরগনার হয়ে ৬২ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন আদিয়ারা। শেষ পর্যন্ত আর গোল হয়নি। সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে উত্তর চব্বিশ পরগনা।
কল্যাণী স্টেডিয়ামে অপর ম্যাচে দারুণ একটা ম্যাচ দেখল ফুটবলপ্রেমীরা। যদিও প্রথমার্ধের দীর্ঘ সময় দেখে বোঝার উপায় ছিল না, ম্যাচে এতগুলো গোল হতে চলেছে। ৪০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর ৪১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার পাওলো সিজার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+৪) তাঁর গোলেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে হাওড়া-হুগলি। অর্থাৎ বিরতিতে যাওয়ার আগে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবলে খেলে সুন্দরবন। ৫৪ মিনিটে তাদের হয়ে ব্যবধান কমান রিচমন্ড। তবে ৬৫ মিনিটে ফৈয়াজের গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হাওড়া-হুগলি। ৭৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পান রিচমন্ড। তবে পাওলো যেখানে আছে, সেখানে চিন্তা কী? ৮৮ মিনিটে তাঁর সৌজন্যেই স্কোর লাইন হাওড়া-হুগলির পক্ষে ৪-২। শেষ মুহূর্তে কিপজেনের গোলে ব্যবধান কমালেও ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই চার দল আবার দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে। দ্বিতীয় লেগের সেমিফাইনাল হবে ৩০ জানুয়ারি। সেদিন রয়্যাল সিটি-নর্থ চব্বিশ পরগনা খেলবে কল্যাণীতে। হাওড়া-হুগলি বনাম সুন্দরবনের ম্যাচটি হবে ইস্টবেঙ্গল মাঠে।
