ক্লাসিক ইউসিএল নাইট! দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নাটকীয়-রোমহর্ষক রাতগুলিকে এই শব্দবন্ধেই বর্ণনা করেন। বুধবার প্রকৃত অর্থে এমনই এক নাটকীয় ক্লাসিক ইউসিএল নাইটের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। টানটান লড়াই, দক্ষতা, ছন্দবদ্ধ ফুটবল, রেকর্ড, শেষ মুহূর্তের কামব্যাক, হৃদয়ভঙ্গ। সবটাই উপভোগ করলেন ইউরোপীয় ফুটবলপ্রেমীরা। ঠিক হয়ে গেল ইউরোপের সেরা ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে কারা সরাসরি সুযোগ পাবেন আর কাদের খেলতে হবে প্লে-অফে।
এমনিতে শেষ ম্যাচ ডে-র আগে মাত্র দুটো দল সরাসরি শেষ ষোলোয় খেলা নিশ্চিত করেছিল। একটা আর্সেনাল আরেকটা বায়ার্ন মিউনিখ। এদিন আরও ছ'টি দল শেষ ষোলোয় সরাসরি উঠে গেল। সেগুলি হল লিভারপুল, টটেনহ্যাম হটস্পার, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্টিং সিপি, ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। শেষ ম্যাচ ডে-তে বার্সেলোনা অনায়াসে হারাল কোপেনগেনেকে। ইয়ামালরা জিতলেন ৪-১ গোলে। গোল করলেন ইয়ামাল, রাফিনহা, লেওয়ানডস্কি এবং র্যাশফোর্ড। গালাতাসারেকে অনায়াসে হারাল পেপ গুয়ার্দিওয়ালার ম্যান সিটি। তারা জিতল ২-০ গোলে। লিভারপুল ৬-০ গোলের বিরাট ব্যবধানে হারাল কারাবাগকে। এদিন গ্রুপ পর্বের অন্যতম টানটান ম্যাচ হল নাপোলি বনাম চেলসির। অ্যাওয়ে ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ইটালির ক্লাবটিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সরাসরি শেষ ষোলয় নাম লেখাল চেলসিও। ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলির মধ্যে ইউরোপের সেরা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশিবার নকআউটে খেলার রেকর্ড গড়ল ব্লু'জরা।
এ তো গেল সাফল্যের কাহিনী। উলটো ছবিও আছে। সম্ভবত শেষ ম্যাচ-ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই দেখা গেল রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বেনফিকার মধ্যে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জোসে মোরিনহোর বেনফিকার বিপক্ষে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারল রিয়াল। একটা সময় রিয়াল ম্যাচে এগিয়েও ছিল। কিন্তু জোসের দলের পালটা আক্রমণ সামলাতে পারেনি রিয়াল রক্ষণ। মজার কথা হল শেষ ম্যাচের আগে রিয়াল ছিল পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে। এক হারে তারা নেমে গেল নবম স্থানে। ফলে এবার প্লে-অফে খেলতে হবে ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের। এছাড়াও প্লেঅফে খেলতে হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি-কেও। শেষ ম্যাচ জিতেও সরাসরি নকআউটে খেলার সুযোগ পায়নি তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম আট দল সরাসরি খেলে শেষ ষোলোয়। নবম থেকে ২৪ নম্বর স্থানে থাকা দলগুলিকে প্লেঅফে খেলে নকআউটে উঠতে হয়।
সরাসরি শেষ ষোলোয় যারা:
আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহ্যাম হটস্পার, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্টিং সিপি, ম্যাঞ্চেস্টার সিটি।
প্লেঅফে যারা:
রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, পিএসজি, নিউক্যাসল ইউনাইটেড, জুভেন্তাস, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, আটলান্টা, বায়ার লেভারকুসেন, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, অলিম্পিয়াকোস, ক্লাব ব্রুজ, গালাতাসারে, মোনাকো, কারাবাগ, বুদে/গ্লিম্ট ও বেনফিকা।
