আইএসএলকে ঘিরে গত ১১টি মরশুমে যা হয়েছে, তার থেকে এই মরশুমে নিয়মের পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ দেশের সর্বোচ্চ লিগ হলেও, এতদিন ধরে গত এগারোটা মরশুম জুড়ে শুধুই লিগ ছিল না। ছিল লিগ কাম নকআউট প্রতিযোগিতা। অর্থাৎ শুরুতে লিগ। তারপর লিগ টেবিলের প্রথম ছ'টি দলকে নিয়ে নকআউট।
কিন্তু এই মরশুমে সেই নিয়ম বদলে গিয়ে শুধুই লিগ হচ্ছে। যার অর্থ, সিঙ্গল লেগে ১৪টি দল ১৩টি করে ম্যাচ খেলার পর যে ক্লাবের পয়েন্ট লিগ টেবিলে সর্বাধিক থাকবে, সেই ক্লাবকেই এই মরশুমের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ চ্যাম্পিয়ন বলে ঘোষণা করা হবে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কোনও সেমিফাইনাল-ফাইনাল ম্যাচ খেলতে হবে না। এই মরশুমে আইএসএলের ফরম্যাট বদলানোর একটাই কারণ, সময়ের অভাব। যে কারণে সুইস মডেলে কারও হোম ম্যাচ। কারও অ্যাওয়ে ম্যাচ করে সিঙ্গল লেগে এবারের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। সিঙ্গল লিগ শেষ হওয়ার পর নকআউট প্রতিযোগিতা করতে হলে যে সময়টুকু লাগবে, এই মরশুমে সেই সময় নেই। তাই শুধুই লিগ।
আপাতত সবার লক্ষ্য ব্রডকাস্টিং পার্টনার কোন কোম্পানি হবে সেই দিকে। যতক্ষণ না বিড পেপার খোলা হচ্ছে, ততক্ষণ সরকারি ভাবে বলা যাবে না, কোনও সংস্থা ম্যাচ সম্প্রচার করার জন্য এগিয়ে আসছে, নাকি শেষ পর্যন্ত কাউকে না পেয়ে দূরদর্শনের শরণাপন্ন হতে হবে।
এদিকে, এই মরশুমের আই লিগের কাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করল ক্লাবগুলি। বুধবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বৈঠকে আই-লিগের প্রতিনিধিরা ফেডারেশনের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখানেই গভর্নিং কাউন্সিলের পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্লাবগুলির প্রস্তাব অনুযায়ী, এই মরশুমের আই লিগ হবে দুই পর্বের ফরম্যাটে। শুরু হতে পারে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে। প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলি হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে সিঙ্গল লিগে একে অপরের মুখোমুখি হবে। দ্বিতীয় পর্বে দলগুলি দু'টি ভাগে ভাগ করা হবে। প্রথম পর্বের শীর্ষে থাকা দলগুলি হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিক চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে খেলবে, আর নিচের অর্ধেক দল সেন্ট্রাল ভেন্যুতে খেলবে রেলিগেশন রাউন্ডে। এক্ষেত্রে প্রথম পর্বে অর্জিত সব পয়েন্ট দ্বিতীয় পর্বেও বহাল থাকবে।
