আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকায় অনুষ্ঠিত আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে। নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে দেশটি। ফিফা সভাপতির মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বিশ্বকাপে তাদের অবশ্যই খেলা উচিত।
এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি বলেন, "ইরান অবশ্যই বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসবে। আশা করা যায়, পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, যাতে ইরান স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারে।" ইনফান্তিনো আরও বলেন, "ইরানকে অবশ্যই খেলতে আসতে হবে। কারণ ওরা যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিশ্বকাপের টিকিট অর্জন করেছে। ইরানের ফুটবলাররা শুধু খেলোয়াড় নন, তাঁরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে আগ্রহী এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।"
এই মুহূর্তে আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও উত্তেজনার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ইরান সরকার এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও, আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের পাশে রয়েছে এএফসি-ও। যদিও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ইরানকে সর্বোচ্চ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি।
গত মাসেই শোনা গিয়েছিল, আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না ইরান। নিজেদের সমস্ত ম্যাচ মেক্সিকোতে সরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন। সেই গুঞ্জনেই সিলমোহর দেন ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহদি তাজ। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বিশ্বকাপ বয়কটের কথা মোটেই ভাবছে না ইরান। জোর কদমে চলছে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। আমরা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট করব, বিশ্বকাপকে নয়।” তবে ফিফা সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সপ্তাহ দুই আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘ইরান প্লেয়ারদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বলছি, এই সময়ে বিশ্বকাপ খেলতে আসা ঠিক হবে না ওদের পক্ষে।’
