সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছর শেষের উৎসব কাটিয়ে নতুন বছরে পদার্পণ। তবে, গত কয়েকদিন ধরে উৎসবের মেজাজে শরীরকে সইতে হয়েছে নানা অত্যাচার। ক'টাদিন চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় আহারের বিরাম ছিল না। পানাহার থেকে রাতজাগা সবটুকু সইতে হয়েছে শরীরকে, থুড়ি অন্ত্রকে! ভুলভাল খাওয়াদাওয়ার চাপ হোক কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপান- সবকিছুর চাপ কিন্তু গিয়ে পড়ে অন্ত্রের উপর। ফলে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে। ফলে, নতুন বছরের শুরুতে পেটের সমস্যা বাড়ে। বিশেষ করে গ্যাস, অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্যতে ভোগার সম্ভাবনা সব চাইতে বেশি। পেটফাঁপা কিংবা গা-বমি এর নিত্য লক্ষণ। অন্ত্র একটি নির্দিষ্ট ছন্দ বা রিদমে চলে। উৎসবের সময় সেই ছন্দটাই ভেঙে যায়। তন্তু বা ফাইবার কম খাওয়া এবং বেশি রাত করে ডিনারের ফলে উপকারি ব্যাকটেরিয়া কমে গিয়ে অন্ত্রে প্রদাহ বাড়ে।
চিকিৎসকরা বলছেন, বছরের শুরুতেই নিজের অন্ত্রের দিকে নজর দিন। চিনি এবং অ্যালকোহল বাদ দিলে মাত্র ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই অন্ত্রের লাইনিং নিজে থেকেই সেরে উঠতে শুরু করে। বিগত দিনের অনিয়ম যেমন স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তেমনি শরীর দ্রুত খাপ খাইয়ে নেয় নিজেকে। তাই, বছর শেষের ধাক্কা সামলাতে নতুন বছরের শুরুটা করুন সচেতন ভাবে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই নিয়মগুলি মানুন।
১. বাজারে চলতি ডিটক্স পানীয়র বদলে শাকসবজি, ফল ও ডাল বেশি করে খান। ফাইবারই হল অন্ত্রের উপকারি ব্যাকটেরিয়ার আসল খাবার।
২. ঘড়ি ধরে খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে হজমের এনজাইমগুলো ঠিকমতো কাজ করে এবং পেটফোলা ভাব কমায়।
৩. ঘুমের সঙ্গে পেটের গভীর যোগ আছে। অনিদ্রা অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমের রুটিন ঠিক রাখুন।
৪. দই বা বাড়ির তৈরি প্রোবায়োটিক খাবার খান। তবে মনে রাখবেন, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার না খেলে প্রোবায়োটিক কাজ করবে না।
৫. নিয়মিত পেটের ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে ময়ূরাসন, কপালভাতি, পবন মুক্তাসনের মতো যোগ-ব্যায়াম পেটের স্বাস্থ্য উদ্ধার করতে দ্রুত সাহায্য করে।
কোনও জাদুকরী ওষুধ বা শর্টকাট নয়। বরং ধারাবাহিক স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই হল সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি। বছরের প্রথমেই অন্ত্রকে সবল করে তলুন।
