সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের সামনে দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে থাকা। কিংবা ভুল দেহভঙ্গির কারণে আমাদের মেরুদণ্ড তার স্বাভাবিক কার্ক্ষমতা হারাতে থাকে। বর্তমান যান্ত্রিক জীবনযাত্রার অন্যতম বড় আতঙ্ক হল 'স্পনডিলাইটিস'। এটি মূলত মেরুদণ্ডের কশেরুকা এবং ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কের এক দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়জনিত রোগ। এই ক্ষয় যখন ঘাড়ের হাড়কে আক্রান্ত করে তখন তাকে সারভিক্যাল স্পনডিলাইটিস এবং কোমরের অংশকে আক্রান্ত করলে লাম্বার স্পনডিলাইটিস বলে। অসহ্য যন্ত্রণা, পেশির আড়ষ্টতা এবং স্নায়ুর ওপর চাপের ফলে তৈরি হওয়া অবশ ভাব এই রোগের প্রধান উপসর্গ।
ওষুধে সাময়িকভাবে ব্যথা কমলেও যোগব্যায়াম সরাসরি রোগের উৎসে গিয়ে কাজ করে। স্পনডিলাইটিস নিয়ন্ত্রণে যোগবিদ্যার ভূমিকা অনবদ্য। আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রে ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি ‘থেরাপিউটিক যোগা’ এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্পনডিলাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ভুল আসন হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই অভিজ্ঞ যোগ থেরাপিস্ট-এর পরামর্শ মেনে চললে সুফল পাবেন।
২) রক্ত সঞ্চালন ও ডিস্কের পুষ্টি: মার্জারাসন ও মকরাসন করলে মেরুদণ্ডের চারপাশের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
৩) পেশির নমনীয়তা: যোগব্যায়াম মেরুদণ্ডের লিগামেন্ট ও পেশিকে স্থিতিস্থাপক করে তোলে। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও হাড়ের ওপর চাপ পড়ে না। 'স্টিফনেস' বা আড়ষ্টতা দ্রুত কমে যায়।
৪) স্নায়ুর শিথিলতা: শলভাসন অনুশীলনে পিঠের পেশিগুলো শক্তিশালী হয়, যা পিঞ্চড নার্ভের ওপর চাপ কমায়।
৫) সবসময় ধীরে চলাফেরা করবেন। ৫ কেজির বেশি ওজন বহন করবেন না।
স্পনডিলাইটিস পুরোপুরি নির্মূল করতে সঠিক ভঙ্গি, নিয়মিত বিরতিতে হাঁটা এবং বিজ্ঞানসম্মত যোগব্যায়ামের কোনও বিকল্প নেই। তবে মনে রাখবেন, তীব্র ব্যথা থাকলে আসন এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আসন নির্বাচন করে তবেই অভ্যাস শুরু করবেন। পিঠে বা মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে ভুলেও যোগব্যায়াম করতে যাবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
