আজকের ব্যস্ত জীবনে ক্লান্তি খুবই সাধারণ। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত ঘুম, মোবাইল বা কাজের চাপ- এগুলোকেই আমরা নিজেদের অবসাদ বা ক্লান্তির কারণ হিসেবে ধরে নিই। কিন্তু সব সময় ক্লান্ত লাগার কারণ জীবনযাত্রা নয়। কখনও কখনও এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে কোনও কারণ ছাড়াই ক্লান্তি অনুভব করা ভিটামিন বি১ বা থায়ামিনের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। এই সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে না, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো খুব সাধারণ এবং সহজেই উপেক্ষিত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
কেন থায়ামিনের ঘাটতি ধরা পড়ে না?
সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় খুব কম ক্ষেত্রেই শরীরে থায়ামিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। ফলে এই ঘাটতি অনেক সময় অজানাই থেকে যায়। শরীরে থায়ামিনের অভাব দেখা দিলে শুরুতে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় সেগুলি হল-
- অকারণ ক্লান্তি
- খিটখিটে মেজাজ
- স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
- ঘুমের সমস্যা
এই লক্ষণগুলো এতটাই সাধারণ যে অনেকেই এগুলোকে স্ট্রেস, কাজের চাপ বা বয়সের প্রভাব বলে ধরে নেন।
আরও একটি বড় কারণ হল শরীরে থায়ামিন জমা থাকার ক্ষমতা খুব কম। শরীর সাধারণত মাত্র ২০ থেকে ৩০ দিনের মতো থায়ামিন সঞ্চয় করে রাখতে পারে। ফলে অল্প সময়ে অপুষ্টি বা শারীরিক চাপেও এই ভিটামিনের মাত্রা দ্রুত কমতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক জীবনযাপনও বাড়াতে পারে ঝুঁকি
কিছু জীবনযাত্রার অভ্যেসও থায়ামিনের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। যেমন-
- মাত্রাতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া
- অতিরিক্ত মদ্য়পান
- উচ্চ রক্তচাপের জন্য ব্যবহৃত কিছু ডাই-ইউরেটিক ওষুধ
এই কারণগুলো শরীর থেকে দ্রুত থায়ামিন বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
থায়ামিনের ঘাটতি বাড়লে কী হতে পারে?
দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটতি চলতে থাকলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। দেখা দিতে পারে বেরিবেরি নামের ভয়ঙ্কর অসুখ, যা স্নায়ুতন্ত্র এবং হৃদযন্ত্র- দুয়ের ওপরই প্রভাব ফেলে। এর ফলে দেখা দিতে পারে-
- পেশি দুর্বলতা
- হাত-পায়ে অবশ ভাব বা স্নায়ুর ক্ষতি
- হৃদযন্ত্রের সমস্যা বা হার্ট ফেলিওর
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা?
সময়মতো ধরা পড়লে থায়ামিনের ঘাটতি খুব সহজেই ঠিক করা যায়। সঠিক খাদ্য়াভ্য়াস এবং প্রয়োজনে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট এই ঘাটতি পূরণে সাহায্য় করে। বিশেষ করে যাঁদের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের সতর্ক হওয়া দরকার-
- যাঁরা অপুষ্টিতে ভুগছেন
- প্রবীণ মানুষ
- অতিরিক্ত মদ্য়পান করেন এমন মানুষ
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে থায়ামিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলে, খাবার থেকে শক্তি উৎপাদন দ্রুত হয়। ফলে দীর্ঘদিনের ক্লান্তিও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কেটে যায়।
