আজকের ডিজিটাল জীবনে সোশাল মিডিয়া হয়ে ওঠেছে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, এতেই কেটে যায় অনেকটা সময়। অনেক সময় আমরা বুঝতেও পারি না এর প্রভাব আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কতটা পড়ছে।
যদিও কোভিড-১৯-এর সময়ে সোশাল মিডিয়া মানুষকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করেছিল। বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির রুহর ইউনিভার্সিটি বোচুমের মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক দল এর থেকে রেহাইয়ের একটি সহজ, কার্যকর সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। সোশাল মিডিয়ায় সময় কমিয়ে সেই সময়টুকু শরীরচর্চায় ব্যয় করা।
গবেষণায় কী জানা গেল
গবেষণায় ৬৪২ জন অংশগ্রহণকারীকে কয়েকটি দলে ভাগ করা হয় এবং দু-সপ্তাহ ধরে তাদের আলাদা রুটিন অনুসরণ করতে বলা হয়-
- একটি দল প্রতিদিন ৩০ মিনিট সোশাল মিডিয়া কম ব্যবহার করে
- একটি দল ৩০ মিনিট বেশি শরীরচর্চা করে
- একটি দল এই দুটি পরিবর্তনই মেনে চলে
- আর একটি দল কোনও পরিবর্তন করেনি
সমীক্ষায় দেখা যায়, যারা সোশাল মিডিয়া স্ক্রল কমিয়েছে বা শরীরচর্চা বাড়িয়েছে, তারা নিজেদের বেশি সুখী, কম স্ট্রেসড এবং বেশি সন্তুষ্ট অনুভব করেছেন। ডিপ্রেশনের লক্ষণও কমেছে। সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা গেছে সেই দলটিতে, যারা এই দুই অভ্যেস একসঙ্গে বদলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত সোশাল মিডিয়া কেন ক্ষতিকর?
সোশাল মিডিয়া বিনোদন ও সংযোগ দিলেও অতিরিক্ত ব্যবহার সমস্যা তৈরি করতে পারে-
- নেশার মতো অভ্যেস তৈরি হতে পারে
- অন্যদের সঙ্গে তুলনায় আত্মবিশ্বাস কমতে পারে
- নেতিবাচক খবর বা কনটেন্ট উদ্বেগ বাড়াতে পারে
শরীরচর্চা কেন অপরিহার্য?
হাঁটা, দৌড়, যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং, এইসব ছোট ছোট শারীরিক কাজও মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে। শরীরচর্চা করলে শরীরে 'ফিল-গুড' হরমোন নিঃসৃত হয়, যা স্ট্রেস কমায়, মন ভালো রাখে এবং শক্তি বাড়ায়।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘমেয়াদেও উপকার
গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু দু-সপ্তাহেই নয়, ৬ মাস পরেও বজায় থাকছে। অংশগ্রহণকারীরা আগের তুলনায় কম সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করেছেন এবং বেশি সক্রিয় থাকছেন।
সহজ পরিবর্তন, উপকারী ফল
এই গবেষণার মূল বার্তা, জীবনে সুস্থ কোনও পরিবর্তনে বড় কিছু করার দরকার নেই। প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট ফোন কম ব্যবহার করে সেই সময়টুকু হাঁটা, ব্যায়াম বা যে কোনও শরীরচর্চায় দিলে মানসিক স্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এই দ্রুতগতির ডিজিটাল জীবনে কখনও কখনও একটু 'ডিসকানেক্ট' হয়ে শরীরকে নড়াচড়া করানোই হতে পারে ভালো থাকার সবচেয়ে সহজ উপায়।
