shono
Advertisement
Prescription Plus

মৃতদেহের চর্বি শরীরে ভরে 'পারফেক্ট' ফিগার! নতুন ট্রেন্ডে বাড়ছে বিতর্ক, আদৌ কার্যকরী?

আধুনিক কসমেটিক চিকিৎসার এই নতুন দিকটি যেমন প্রযুক্তিগতভাবে অভিনব, তেমনি তা নিয়ে ভাবনার জায়গাও তৈরি করছে- শরীর, সৌন্দর্য আর নৈতিকতার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত?
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 06:04 PM Apr 07, 2026Updated: 07:07 PM Apr 07, 2026

মার্কিন মুলুকে সম্প্রতি এক বিতর্কিত কসমেটিক ট্রেন্ড সামনে এসেছে, যেখানে মানুষের মৃত্যুর পর দান করা দেহ থেকে সংগৃহীত চর্বি ব্যবহার করা হচ্ছে শরীরের গঠন বদলাতে! 'আওয়ারগ্লাস ফিগার' পেতে এই বিশেষ ধরনের ইনজেকশন ব্যবহার করছেন অনেক নারী- যা একদিকে যেমন আকর্ষণীয় বলে প্রচার করা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি উঠছে নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রশ্নও।

Advertisement

এই পদ্ধতিতে যে চর্বি ব্যবহার করা হয়, তা মূলত অঙ্গ ও টিস্যু দানকারীদের দেহ থেকে সংগ্রহ করা। পরে সেটিকে জীবাণুমুক্ত করে, বিশুদ্ধ করে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যাতে সেখানে কোনও জীবন্ত কোষ বা ডিএনএ না থাকে। ফলে শরীরের প্রতিক্রিয়া বা রিজেকশনের সম্ভাবনা কমে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ঝুঁকিহীন নয়। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ করে যাঁদের শরীরে নিজের ফ্যাট কম বা আগে লিপোসাকশন করানোর কারণে পর্যাপ্ত ফ্যাট নেই, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেকেই ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের পর শরীরের ভলিউম হারালে সেটি ফিরিয়ে আনতেও এই ইনজেকশনের শরণাপন্ন হচ্ছেন। হিপ ডিপস ভরাট, নিতম্ব বা স্তনের আকার বাড়ানো- এইসব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় কারণ হল এর সহজতা। সাধারণত বড় সার্জারির মতো জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া লাগে না, ক্লিনিকেই অল্প সময়ে কাজটি সম্পন্ন হয়। ফলে ঝামেলা কম, খুব বেশিদিন বিশ্রামও নিতে হয় না। তবে খরচ কিন্তু মোটেও কম নয়- প্রায় ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় কয়েক লক্ষ থেকে প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি।

বিতর্কহীন নয়। ছবি: সংগৃহীত

তবে সুবিধার পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। ভুলভাবে ইনজেকশন দিলে ফ্যাট এম্বোলিজমের মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। এছাড়া ইনফেকশন বা শরীরের ভেতরে জমাট বাঁধা ফ্যাটের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, স্তনে এই ধরনের উপাদান ইনজেক্ট করলে ভবিষ্যতে ম্যামোগ্রাম বা ক্যানসার স্ক্রিনিং জটিল হতে পারে।

এই ট্রেন্ড ঘিরে নৈতিক বিতর্কও কম নয়। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যাঁরা তাঁদের দেহ বিজ্ঞানচর্চার জন্য দান করেন, তাঁরা কি সত্যিই চেয়েছিলেন তাঁদের শরীরের অংশ কসমেটিক সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হোক? 'এথিক্যাল সোর্সিং'-এর দাবি থাকলেও, এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি।

সব মিলিয়ে, আধুনিক কসমেটিক চিকিৎসার এই নতুন দিকটি যেমন প্রযুক্তিগতভাবে অভিনব, তেমনই তা নিয়ে ভাবনার জায়গাও তৈরি করছে- শরীর, সৌন্দর্য আর নৈতিকতার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement