আম মানেই গরমের আনন্দ। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন, এই মিষ্টি ফল কি খাওয়া নিরাপদ? পুষ্টিবিদরা বলছেন, একেবারে না খেয়ে থাকার দরকার নেই; বরং পরিমিত পরিমাণ, নির্দিষ্ট সময় আর সঠিক উপায়ে খেলে আম ডায়াবেটিস ডায়েটে জায়গা পেতেই পারে।
আমের পেছনের বিজ্ঞান কী বলছে?
আমে রয়েছে ম্যাঙ্গিফেরিন নামের একটি বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কিছুটা উন্নত করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই আম শুধু মিষ্টিই নয়, পরিমিতভাবে খেলে কিছু উপকারও মিলতে পারে।
ডায়াবেটিস মানে আম পুরো বাদ দেওয়া নয়। ছবি: সংগৃহীত
পরিমাণটাই আসল বিষয়
ডায়াবেটিস থাকলে আম খাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি। সাধারণভাবে নিরাপদ ধরা হয় ৮০-১০০ গ্রাম (প্রায় আধা কাপ কাটা আম)। এতে থাকে প্রায় ১২-১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। এই পরিমাণ বজায় রাখলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
কখন খাচ্ছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ
খালি পেটে আম খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই ভরপেট খাবারের পর খান অথবা প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঙ্গে মিলিয়ে খান।
কীভাবে খেলে ভালো?
- ভারী খাবার খাওয়ার পর
- অল্প পরিমাণে খান
- গোটা ফল হিসেবে খান, জুস করে নয়
কী এড়িয়ে চলবেন?
- আমের শেক, মিষ্টি বা প্যাকেটজাত জুস
- কার্বোহাইড্রেট (যেমন সাদা পাউরুটি, মিষ্টি) সঙ্গে খাওয়া
- স্বাস্থ্যকর ভেবে বেশি খেয়ে ফেলা
ডায়াবেটিসে আমের স্বাদ নেওয়াই যায়, পরিমাণটাই আসল। ছবি: সংগৃহীত
ডায়াবেটিস মানে আম পুরো বাদ দেওয়া নয়; বরং কীভাবে খাবেন সেটা জানা জরুরি। নিয়ন্ত্রত পরিমাণে সঠিকভাবে খেলে রক্তে শর্করা বাড়া অনেকটাই কমতে পারে। খালি পেটে না খেয়ে খাবারের পরে আম খেলে শরীরে শর্করা শোষণ ধীরে হয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা কমে।
সব মিলিয়ে ডায়াবেটিস থাকলেও আম থেকে দূরে থাকার প্রয়োজন নেই। সচেতনভাবে, পরিমিত পরিমাণ আর সঠিক সময়ে খেলে এই প্রিয় ফলটিও আপনার খাদ্যতালিকায় নিশ্চিন্তে জায়গা করে নিতে পারে।
