shono
Advertisement
Eye twitching

চোখ কাঁপলেই শুভ-অশুভর হিসেব! কুসংস্কার ছেড়ে জানুন আসল কারণ, জরুরি ডাক্তারি পরামর্শও

চোখ কাঁপা ছোট সমস্যা হলেও, অনেক সময় বড় কোনও সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তনেই এটি ঠিক হয়ে যায়। তবে লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:33 PM Mar 31, 2026Updated: 08:33 PM Mar 31, 2026

চোখ কাঁপলে অনেকেই ধরে নেন, ভালো বা মন্দ কিছু একটা ঘটতে চলেছে। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত নয়, বরং শরীরের ছোট্ট এক সংকেত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় আই লিড মায়োকেমিয়া। চোখের পাতার সূক্ষ্ম, অনিয়ন্ত্রিত পেশি সংকোচন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ক্ষণস্থায়ী এবং ক্ষতিকর কিছু নয়। সাধারণত এক চোখেই হয় এবং নিজে থেকেই ঠিকও হয়ে যায়।

Advertisement

স্বাভাবিক নাকি সতর্কবার্তা? ছবি: সংগৃহীত

চোখ কাঁপার সম্ভাব্য সাত কারণ
১. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ স্নায়ুকে উত্তেজিত করে, যার প্রভাব পড়ে চোখের পেশিতে।
২. ঘুমের অভাব
ঠিকমতো ঘুম না হলে চোখের পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ফলে চোখে কাঁপুনি দেখা দিতে পারে।
৩. অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল
কফি, চা, এনার্জি ড্রিংক বা অ্যালকোহল স্নায়ুকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে, যা কাঁপুনির কারণ হতে পারে।
৪. চোখে অতিরিক্ত চাপ
দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, কম্পিউটার বা একটানা অনেকক্ষণ বই পড়লে চোখে চাপ পড়ে, ফলে পেশিতে স্প্যাজম হতে পারে।
৫. পুষ্টির ঘাটতি
ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম বা ভিটামিন বি১২-এর অভাবেও পেশির অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন হতে পারে।
৬. চোখে জ্বালা বা অ্যালার্জি
ড্রাই আই, ধুলো, দূষণ বা অ্যালার্জি চোখে অস্বস্তি তৈরি করে, যা চোখে কাঁপুনির ট্রিগার হতে পারে।
৭. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ওষুধ, বিশেষত যেগুলো স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, সেগুলোতে চোখ কাঁপার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

এক সপ্তাহের বেশি চললে অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত

বিরল কিন্তু গুরুতর কারণ
বেশিরভাগ সময় চোখ কাঁপা খুব একটা সমস্যা তৈরি করে না। কয়েকদিনের মধ্যে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী হলে কিছু জটিল সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। যেমন-

  • চোখের পাতা নিজে থেকে বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মুখের এক পাশ জুড়ে কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়া
  • খুব বিরল ক্ষেত্রে এটি স্নায়বিক রোগের লক্ষণও হতে পারে

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
এই লক্ষণগুলো থাকলে অপেক্ষা না করাই ভালো। যেমন-

  • এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাঁপুনি
  • চোখ লাল হওয়া বা ফুলে যাওয়া
  • পুঁজ বা জল পড়া
  • চোখ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মুখের অন্য অংশে কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়া
  • দৃষ্টিতে সমস্যা বা অন্য কোনও জটিলতা দেখা দিলে

চোখের যত্নে জরুরি ২০-২০-২০ নিয়ম। ছবি: সংগৃহীত

সমাধানে কী করণীয়?

  • দরকার পর্যাপ্ত ঘুম
  • জরুরি ক্যাফেইন, অর্থাৎ, চা, কফি পানে নিয়ন্ত্রণ
  • স্ক্রিন টাইমের মাঝে বিরতি। ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা
  • চোখে মাঝেমধ্যে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দেওয়া
  • প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন

চোখ কাঁপা ছোট সমস্যা হলেও, অনেক সময় বড় কোনও সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তনেই এটি ঠিক হয়ে যায়। তবে লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement