মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, তার জেরে তেল-গ্যাসের সরবরাহে টান, আর সেই ঢেউ এবার এসে লাগছে বিয়ারের গ্লাসেও। সরবরাহে ঘাটতির কারণে বাড়তে চলেছে দাম, ফলে বিয়ারের ক্য়ান বা গ্লাসে চুমুকের খরচ বাড়বে। ঠিক এই সময়েই সামনে এল এক চমকপ্রদ গবেষণা, যা মদের ধরন নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
মদের গ্লাসে শুধু নেশা নয়, লুকিয়ে থাকে শরীরের গল্পও। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সব ধরনের অ্যালকোহল শরীরের ওপর একই প্রভাব ফেলে না। তিন লক্ষেরও বেশি মানুষের দীর্ঘদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, বিয়ার বা হুইস্কি অল্প বা মাঝারি পরিমাণও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সব অ্যালকোহলের প্রভাব শরীরে এক নয়। ছবি: সংগৃহীত
অন্যদিকে, একই মাত্রায় ওয়াইন পানে ছবিটা কিছুটা আলাদা। অল্প বা মাঝারি পরিমাণে ওয়াইন পানকারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ২১ শতাংশ কম! যেখানে অন্যান্য অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি উলটে প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
তবে একটা বিষয় মনে রাখুন, পরিমাণ বাড়লে সব ধরনের অ্যালকোহলই ক্ষতিকর হয়ে ওঠতে পারে। অতিরিক্ত পানে ক্যানসার, হৃদরোগ- সবেরই ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, ওয়াইনের মধ্যে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সুরক্ষা কিছুটা মেলে।
তবে জীবনযাত্রার অভ্যেসও এখানে বড় ভূমিকা নেয়। যারা নিয়মিত ওয়াইন পান করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা মেনে চলেন, যা এই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়াইনে থাকা পলিফেনল আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টই গড়ে পার্থক্য়। ছবি: সংগৃহীত
আরও একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ- এই গবেষণা পর্যবেক্ষণমূলক। তাই সরাসরি বলা যায় না যে ওয়াইন ঝুঁকি কমায়। অংশগ্রহণকারীদের তথ্যও একবারই নেওয়া হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে অভ্যেস বদলের হিসেব ধরা হয়নি।
উলটোদিকে, সাম্প্রতিক আরও কিছু গবেষণা সতর্ক করছে, অল্প পরিমাণ অ্যালকোহলও মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে, বাড়াতে পারে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি। সব মিলিয়ে একটা বিষয় মনে রাখুন, মদের ধরন কিছুটা পার্থক্য গড়ে দিলেও, আসল কথা কিন্তু সেই সংযম। আর পান করতেই হলে সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
