ঘরে সবাই গল্পে মশগুল। ঘরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিক। অথচ আপনারই হঠাৎ শীত লাগছে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে, গায়ে টানতে হচ্ছে চাদর বা জ্যাকেট। অনেকেই এটাকে স্বভাব বা ব্যক্তিগত অভ্যেস ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বারবার এমন হলে এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু কারণ।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এক জটিল প্রক্রিয়া। বিপাকক্রিয়া, শরীরের গঠন, হরমোনের কাজ এবং মানসিক চাপ- সব মিলিয়েই ঠিক হয় আমরা কতটা ঠান্ডা অনুভব করব। এই ব্যবস্থায় সামান্য ভারসাম্য নষ্ট হলে, একই পরিবেশ কারও কাছে স্বাভাবিক, আবার কারও কাছে বেশি ঠান্ডা মনে হতে পারে।
কী ঠান্ডা! ছবি: সংগৃহীত
আয়রনের ঘাটতি
শরীরে আয়রনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। যখন আয়রনের মাত্রা কমে যায়, তখন কোষে অক্সিজেন পৌঁছনোও কমে এবং শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। শরীরের তাপ মূলত শক্তি উৎপাদনের ফল। ফলে আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর তুলনামূলক কম তাপ উৎপন্ন করে এবং এ কারণে অনেকের বেশি ঠান্ডা অনুভব হতে পারে।
শরীরে ফ্য়াট বা চর্বি পরিমাণ কম
আমাদের চামড়ার নিচে যে চর্বির স্তর থাকে, সেটি শুধু শক্তির ভান্ডার নয়, বরং শরীরের তাপ ধরে রাখার একটি প্রাকৃতিক আবরণ। এই স্তর শরীরের ভেতরের তাপকে সহজে বাইরে বেরিয়ে যেতে দেয় না। যাঁদের শরীরে চর্বির পরিমাণ কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষার স্তর পাতলা হয়ে যায়। ফলে শরীর দ্রুত তাপ হারায় এবং অন্যদের তুলনায় তাঁদের বেশি ঠান্ডা অনুভব হয়।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
মানসিক চাপ শুধু মনকেই নয়, শরীরে হরমোনের ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করে। দীর্ঘদিন ধরে চাপ বা উদ্বেগে থাকলে কর্টিসল নামের হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে। এর ফলে কখনও কখনও হাত-পায়ের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়। তখন ওই অংশে রক্তপ্রবাহ কমে এবং হাত-পায়ে ঠান্ডা অনুভব হয়।
কখন সতর্ক হবেন
মাঝে মাঝে ঠান্ডা লাগা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু যদি প্রায়ই এমন হয়, যখন অন্যরা স্বাভাবিক, অথচ আপনারই বেশি ঠান্ডা লাগছে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ অনেক সময় শরীরের ভেতরের ছোট ছোট পরিবর্তনই এই অনুভূতির কারণ হয়ে ওঠে। তাই প্রয়োজনে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ বা অন্য় কোনও বড় অসুখের লক্ষণ কিনা সে দিকেও নজর দেওয়া দরকার।
