shono
Advertisement
NEET UG 2026

প্রশ্নফাঁসে থমকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন! হতাশা ও অনিশ্চয়তার মাঝে সন্তানদের সামলাবেন কীভাবে?

প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা বাতিল কোনও পড়ুয়ার হাতে থাকে না। তাই এই পরিস্থিতির জন্য নিজেকে ব্যর্থ ভাবার কোনও কারণ নেই। একটি পরীক্ষা পিছিয়ে যেতে পারে, আবার নতুন করে শুরু হতে পারে, কিন্তু একজন মানুষের স্বপ্ন, মেধা এবং সম্ভাবনা কখনও একটি দিনে শেষ হয়ে যায় না।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 02:57 PM May 13, 2026Updated: 02:57 PM May 13, 2026

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বছরের পর বছর ঘুমহীন রাত কাটিয়েছে তাঁরা। বই, কোচিং আর মক টেস্টের দীর্ঘ প্রস্তুতির পর অবশেষে সেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিনের অপেক্ষায় ছিল লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া। কিন্তু সেই স্বপ্নের দিনই পরিণত হল দুঃস্বপ্নে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হয়ে গেল ডাক্তারি পড়ার সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET UG 2026)। আর সেই ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে হতাশার ছায়া।

Advertisement

৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পরীক্ষায় বসেছিলেন প্রায় ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার আগেই ছড়িয়ে পড়া একটি ‘গেস পেপার’-এর সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের বহু প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে। বিশেষ করে রসায়নের প্রায় ১২০টি প্রশ্ন এবং জীববিজ্ঞানের একাধিক প্রশ্নে মিল পাওয়ার পরই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।

এই ঘটনায় শুধু পরীক্ষা নয়, ভেঙেছে লক্ষ লক্ষ পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও। কারণ, নিট অনেকের কাছে শুধুই একটি পরীক্ষা নয়, এটি আত্মত্যাগ, প্রত্যাশা, মানসিক চাপ এবং পরিবারের স্বপ্নের আরেক নাম।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি পড়ুয়াদের মানসিকভাবে গভীর আঘাত দিতে পারে। তাঁদের কথায়, যে ছাত্রছাত্রীরা বহু বছর ধরে শুধুমাত্র একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়েছে, তাদের কাছে হঠাৎ এই অনিশ্চয়তা অসহায় লাগতেই পারে। কিন্তু কোনও পরীক্ষা বাতিল হওয়া কখনওই একজন মানুষের মেধা বা ভবিষ্যৎকে মুছে দিতে পারে না।

বাড়ছে মানসিক চাপ। ছবি: সংগৃহীত

কেন এতটা ভেঙে পড়ছে পড়ুয়ারা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একটানা চাপের মধ্যে থাকার পর পরীক্ষাটাই হয়ে ওঠে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। তাই হঠাৎ করে সব অনিশ্চিত হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক ধাক্কা লাগে। অনেক পড়ুয়ার মধ্যেই দেখা দিচ্ছে-

  • ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়
  • রাগ ও ক্ষোভ
  • ঘুমের সমস্যা
  • মানসিক ক্লান্তি
  • পড়াশোনার প্রতি অনীহা
  • পরিবারকে হতাশ করার ভয়

মনোবিদদের মতে, এই অনুভূতিগুলো একেবারেই স্বাভাবিক। কারণ, এত বড় পরীক্ষার পরে এমন পরিস্থিতিতে যে কেউই ভেঙে পারতে পারে।

ভেতরের কষ্ট চেপে রাখবেন না
অনেকেই নিজের কষ্ট লুকিয়ে 'আমি ঠিক আছি' বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জমতে থাকা ভয় ও হতাশা ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। মনোবিদদের মতে, নিজের অনুভূতি চেপে না রেখে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা খুব জরুরি। যেমন- বাবা-মা, বন্ধু, ভাই-বোন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কাউন্সেলর ইত্যাদি।

মনের কথা ভাগ করে নিলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে। দীর্ঘদিন সব কিছু ভেতরে জমিয়ে রাখলে তা ঘুম, মনোযোগ এবং আত্মবিশ্বাসের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রয়োজন বাড়ির লোকের সান্নিধ্য। ছবি: সংগৃহীত

সোশাল মিডিয়া এই মুহূর্তে আরও বিপজ্জনক
পরীক্ষা বাতিলের পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য গুজব, বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক। কেউ পুনরায় পরীক্ষার তারিখ বলছে, কেউ আবার ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে। এই লাগাতার তথ্যের চাপে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বহু ছাত্রছাত্রী। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-

  • শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সূত্রকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করুন
  • অযথা সোশাল মিডিয়া স্ক্রল কমান
  • অন্যের প্রস্তুতি বা নম্বরের সঙ্গে নিজের তুলনা করবেন না। কারণ এই তুলনাই ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়।
  • আগে যেমন রুটিন ছিল, সেই রুটিন ভাঙা একেবারেই উচিত নয়

অনেক পড়ুয়াই ধাক্কা সামলাতে না পেরে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোপুরি পড়াশোনা বন্ধ করে দিলে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিনের জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি-

  • বই থেকে দূরে না থেকে রিভিশন
  • সময়মতো ঘুম
  • পুষ্টিকর খাবার
  • হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চা
  • যোগব্যায়াম
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম

এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই কঠিন সময়ে মানসিক স্থিরতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবারের পাশে থাকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে পড়ুয়াদের উপর বাড়তি চাপ না দিয়ে তাঁদের মানসিকভাবে নিরাপদ অনুভব করানো জরুরি। বারবার 'এখন কী হবে?' বা 'আবার প্রস্তুতি নেবে তো?'- এমন প্রশ্ন না করে তাঁদের কথা শোনা প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় একটি শান্ত পরিবেশই সবচেয়ে বড় মানসিক ওষুধ হয়ে ওঠে।

একটি পরীক্ষা কখনও পুরো জীবন নয়
প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা বাতিল কোনও পড়ুয়ার হাতে থাকে না। তাই এই পরিস্থিতির জন্য নিজেকে ব্যর্থ ভাবার কোনও কারণ নেই। একটি পরীক্ষা পিছিয়ে যেতে পারে, আবার নতুন করে শুরু হতে পারে, কিন্তু একজন মানুষের স্বপ্ন, মেধা এবং সম্ভাবনা কখনও একটি দিনে শেষ হয়ে যায় না।

তবে যদি কারও মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক, কান্না, প্যানিক অ্যাটাক, ঘুমের সমস্যা বা মানসিক অবসাদের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই মনোবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement