বিতর্কের কেন্দ্রে রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমে তাঁকে ভেপিং করতে দেখা যায়। লাইভ ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই ভিডিও এখন রীতিমতো ভাইরাল। ফলে সম্ভাব্য শাস্তি, আচরণবিধি লঙ্ঘন, সব কিছু নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ভারতের সব ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গ্যালারি, ড্রেসিংরুম বা ডাগআউট কোথাওই নয়। তার উপর ভেপিং আরও গুরুতর বিষয়। কারণ ইলেকট্রনিক সিগারেট (নিষেধাজ্ঞা) আইন ২০২৯ অনুযায়ী দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ। এই আইন ভাঙলে জেল ও জরিমানার মতো কড়া শাস্তির বিধান রয়েছে।
রিয়ান পরাগ। ড্রেসিংরুমেই ভেপিং! ছবি: সংগৃহীত
ভেপিং কেন এত বিপজ্জনক?
অনেকেই মনে করেন, ভেপিং সিগারেটের তুলনায় নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে ভেপিং-এ শরীরে প্রবেশ করে বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং উচ্চমাত্রার নিকোটিন, যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়ংকর ক্ষতি করতে পারে। যেমন-
বিষাক্ত রাসায়নিক: ভেপিং-এর ধোঁয়ায় থাকে নিকোটিন, ফর্মালডিহাইড, অ্যাসিট্যালডিহাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান, যা ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলে।
নিকোটিন আসক্তি: বেশিরভাগ ভেপেই উচ্চমাত্রার নিকোটিন থাকে, যা খুব দ্রুত আসক্ত করে তোলে এবং ছাড়াও কঠিন হয়ে যায়।
ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি: গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপিং-এর সঙ্গে গুরুতর ফুসফুসের রোগের সম্পর্ক রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
সিগারেটের থেকেও কেন বেশি বিপজ্জনক হতে পারে?
অধিক নিকোটিন: অনেক ভেপে সাধারণ সিগারেটের তুলনায় বেশি নিকোটিন থাকে।
ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ: সূক্ষ্ম অ্যারোসোল কণা ফুসফুসের গভীরে ঢুকে ক্ষতি করে।
ক্ষতিকর যৌগ: উচ্চ তাপে রাসায়নিক গরম হয়ে আরও ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়।
হার্টে তাত্ক্ষণিক প্রভাব: ভেপিং হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে কী হতে পারে?
- ফুসফুসের ক্ষমতা কমে যাওয়া, সিওপিডি-র মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
- নিকোটিনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রক্তচাপ ও হার্ট রেট বাড়িয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ায়।
- নিকোটিন আসক্তির সঙ্গে উদ্বেগ, ডিপ্রেশন বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
চিকিৎসকদের মতে, ই-সিগারেট বা ভেপিং কম ক্ষতিকর এই ধারণা ভুল। এতে থাকা অজানা রাসায়নিক মিশ্রণ শরীরে প্রদাহ, ডিএনএ ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কেন এখনই সচেতন হওয়া জরুরি?
ভেপিং-এর মার্কেটিং মূলত তরুণদের লক্ষ্য করে, ফলে কম বয়সেই নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি পরবর্তীতে সাধারণ সিগারেটের দিকেও ঠেলে দেয়।
ছাড়তে চাইলে কী করবেন?
ভেপিং ছাড়াটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ট্রিগার চিহ্নিত করা, বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া এবং ধাপে ধাপে নিকোটিন কমানো।
ম্যাচের এক মুহূর্তের ঘটনা হয়তো বিতর্ক তৈরি করেছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয়- ভেপিং নিয়ে আমাদের ধারণা। যত দ্রুত এই অভ্যাস থেকে দূরে থাকা যায়, ততই শরীরের জন্য ভালো।
