সম্পর্কে দূরত্ব নয়, বরং ভালো ঘুমের খোঁজে—ভারতে ধীরে ধীরে বাড়ছে এক নতুন প্রবণতা, যার নাম 'স্লিপ ডিভোর্স'। শব্দটা শুনতে একটু নাটকীয় লাগলেও এর অর্থ কিন্তু বিচ্ছেদ নয়। বরং অনেক দম্পতি ইচ্ছাকৃতভাবেই আলাদা বিছানা বা আলাদা ঘরে ঘুমোতে শুরু করছেন, যাতে দুজনেরই ঘুম ভালো হয়।
সম্প্রতি ঘুম-সংক্রান্ত এক সমীক্ষা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ভারতে এখন অর্ধেকেরও বেশি দম্পতি মাঝে মাঝে আলাদা ঘুমোন। আধুনিক জীবনযাত্রা, কাজের চাপ এবং ঘুমের সমস্যার কারণে অনেকেই বুঝতে পারছেন যে, ভালো ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত
'স্লিপ ডিভোর্স' আসলে কী?
'স্লিপ ডিভোর্স' বলতে বোঝায় এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রী ভালো ঘুমের জন্য সচেতনভাবে আলাদা বিছানা বা আলাদা ঘরে ঘুমোন। তবে এটি সব সময় স্থায়ী নয়। অনেক দম্পতি সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনে আলাদা ঘুমোলেও সপ্তাহান্তে বা বিশেষ সময়ে একসঙ্গে ঘুমোন। ঘুম-বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় ঘুম সংক্রান্ত সমস্য়ার বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে 'স্লিপ ডিভোর্স', বিশেষ করে যখন একসঙ্গে ঘুমোলে বারবার ঘুম ভেঙে যায়।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাস্তব কারণ—
নাক ডাকা: একজনের নাক ডাকা অন্যজনের ঘুমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ঘুমের সময়সূচি: কেউ খুব তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যান, কেউ আবার রাত জেগে কাজ করেন।
কাজের চাপ ও স্ট্রেস: অনিয়মিত জীবনযাত্রা ঘুমের ধরন বদলে দেয়।
লাইফস্টাইলের পার্থক্য: মোবাইল ব্যবহার, দেরিতে খাওয়া বা কাজের সময়ের তারতম্য।
ছবি: সংগৃহীত
সম্পর্কের জন্য কি ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'স্লিপ ডিভোর্স' মানেই সম্পর্কের সমস্যা, এমনটা নয়। বরং পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, আবেগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয় এবং সম্পর্কেও অকারণ উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো ঘুম মানসিক স্থিতি ও সম্পর্কের সন্তুষ্টি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অনেক দম্পতি এখন বুঝতে পারছেন, কখনও কখনও আলাদা ঘুমোনোই দুজনের জন্যই ভালো।
বদলাচ্ছে ভাবনা
ঘুমের সমস্যা এবং আধুনিক জীবনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দম্পতিরা ধীরে ধীরে গতানুগতিক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছেন। এখন অনেকেই সম্পর্কের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি নিজের ঘুমের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে স্পষ্ট হচ্ছে, একসঙ্গে থাকা মানেই সব সময় এক বিছানায় ঘুমোনো নয়—বরং ভালো থাকা ও ভালো ঘুমের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে সম্পর্কের আসল ভারসাম্য।
