রুটির সঙ্গে আলু-পেঁপের তরকারি খেতে মন্দ বাসেন না অনেকেই। অনেকের আবার তরকারির প্রতি অনীহা থাকলেও পাকা পেঁপে খেতে আপত্তি থাকে না। স্বাস্থ্যকর কি-না, সে প্রশ্নের উত্তরে পেঁপে উত্তীর্ণ হবে সসম্মানে! এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, হজমে সাহায্যকারী উৎসেচক যেমন পাপাইন। নিয়মিত পেঁপে খেতে পারলে হজমক্ষমতা বাড়ে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ত্বককেও কোমল ও মসৃণ করে তোলে। তবে এত গুণসমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সকলের খাদ্যতালিকায় পেঁপের জায়গা না থাকাই ভালো। কারণ ক্ষেত্রবিশেষে হীতের বদলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বড় রকমের রোগ বাধাতে পারে সামান্য কয়েক টুকরো পেঁপে!
কাঁচা পেঁপে তরকারিতে খাওয়া যায়, পাকা পেঁপে খাওয়া যায় এমনিই
কারা পেঁপে খেতে পারবেন না, সে বিষয়ে বিশদে জানিয়ে দেন স্বাস্থ্যবিদরা। এ তালিকায় কি রয়েছেন আপনিও?
অন্তঃসত্ত্বা – চিকিৎসকদের মতে, পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন হওয়া উচিত গর্ভবতীদের। এতে ল্যাটেক্স থাকে, পাপাইন জাতীয় উৎসেচকও থাকে প্রভূত পরিমাণে। এর ফলে আচমকা জরায়ুর সংকোচন হতে পারে।
দুর্বল হৃদয়ের ব্যক্তিরা – পেঁপেতে উপস্থিত থাকে এমন ধরনের উপাদান, যা মানবশরীরে অতি-সামান্য পরিমাণে হাইড্রোজেন সায়ানাইড ত্যাগ করতে পারে। এমনিতে তাতে ক্ষতি না থাকলেও, যেসব ব্যক্তির অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হয়, তাদের ক্ষেত্রে ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ল্যাটেক্স অ্যালার্জিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা – পেঁপেতে কিছু মাত্রায় ল্যাটেক্স থাকে বলেই হাঁচি, চুলকানি অথবা হাঁপানির সমস্যা হতে পারে এ থেকে।
হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা – এতে গয়ট্রোজেন থাকে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির আয়োডিন শোষণের ক্ষমতাকে বাধাপ্রাপ্ত করে। ফলে হরমোনের মাত্রা বিঘ্নিত হয়। এতে মাথাঘোরা, আচমকা ওজন বেড়ে যাওয়া, চট করে ঠান্ডা লেগে যাওয়া, এবং মেটাবলিজম ধীর হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
যাদের সহজে বৃক্কে পাথর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অথবা হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত, তাদের পেঁপে এড়িয়ে চলাই ভালো।
যাঁদের কিডনি দুর্বল – অনেকেই এমন রয়েছেন, যাদের কিডনিতে সহজে পাথর তৈরি হয়। পেঁপেতে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি থাকে, যা মানবশরীরে প্রবেশের পর অক্সালেটে পরিণত হয়। শরীরমধ্যস্থ ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলিত হয়ে তৈরি হতে পারে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি স্টোন’। তাই এমন সম্ভাবনা থাকলে, খাবারের পাতে পেঁপে না রাখাই ভালো।
এসবের কোনওটাই না থাকা সত্ত্বেও যদি পেঁপে খাওয়ার পর কোনও শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়, তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যোগাযোগ করুন চিকিৎসকের সঙ্গে।
