shono
Advertisement
Heatwave Power Nap

হিটওয়েভে শরীর 'হ্যাং', মাথা ঝিমঝিম? দুপুরের এই সহজ অভ্যাসেই ফিরবে এনার্জি

তাপপ্রবাহ এখন শুধু অস্বস্তি নয়, এটি ধীরে ধীরে শরীর ও মস্তিষ্কের উপর দীর্ঘ প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে দিনের বেলার পাওয়ার ন্যাপ শরীরকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, ক্লান্তি কমাতে পারে এবং মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 05:16 PM May 26, 2026Updated: 05:43 PM May 26, 2026

গরম এখন আর শুধু অস্বস্তির ঋতু নয়, ধীরে ধীরে তা জনস্বাস্থ্যের বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে। ভারতে প্রতি বছর তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। দুপুরের রোদ, গরমে ঘুমহীন রাত, ক্লান্ত শরীর— সব মিলিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এই অতিরিক্ত গরম শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলায় অল্প সময়ের 'পাওয়ার ন্যাপ' বা সামান্য ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে কিছুটা এনার্জি বা শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। যদিও এটি কোনও ম্যাজিক সমাধান নয়, তবু সঠিকভাবে নেওয়া ছোট্ট বিশ্রাম গরমের ক্লান্তি সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

পাওয়ার ন্যাপ। ছবি: সংগৃহীত

গরম কেন শরীরকে এত দ্রুত ক্লান্ত করে?
আমাদের শরীর সবসময় একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু বাইরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেড়ে গেলে শরীরের সেই স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চাপে পড়ে। ঘাম, জলশূন্যতা এবং অতিরিক্ত তাপ শরীরকে দুর্বল করে দেয়। তার সঙ্গে রাতের গরমও ঘুমের মান নষ্ট করে। ফলে শরীর পরের দিনের জন্য ঠিকমতো নিজেকে তৈরি করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের এই অভাবই দিনের ক্লান্তি, বিরক্তি, মাথা ঝিমঝিম করা এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার বড় কারণ। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে কাজের দক্ষতা কমে, ভুলের ঝুঁকি বাড়ে, এমনকী মানসিক চাপও বেড়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত গরম শুধু শরীরকে নয়, ঘুম, মনোযোগ এবং মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে। তাই দিনের বেলায় অল্প সময়ের পরিকল্পিত বিশ্রাম অনেক ক্ষেত্রে শরীরকে কিছুটা পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।

সামান্য ঘুম কীভাবে সাহায্য কররে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ থেকে ২৫ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ মস্তিষ্ককে সাময়িকভাবে 'রিসেট' করার মতো কাজ করতে পারে। এতে শরীর কিছুটা বিশ্রাম পায়, মনোযোগ বাড়ে এবং ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়।

বিশেষ করে যারা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করেন, যেমন নির্মাণ শ্রমিক, ডেলিভারি কর্মী, ট্রাফিক পুলিশ বা দীর্ঘ দূরত্ব যাতায়াতকারী মানুষ— তাঁদের ক্ষেত্রে দুপুরের এই ছোট্ট বিশ্রাম মানসিক ও শারীরিক চাপ কমাতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে।

মেলে সাময়িক স্বস্তি। ছবি: সংগৃহীত

তবে যেভাবে খুশি ঘুমোলেই হবে না
পাওয়ার ন্যাপেরও সঠিক নিয়ম রয়েছে। গরম, বদ্ধ বা বাতাসহীন ঘরে দীর্ঘক্ষণ ঘুমালে উলটে শরীর আরও অবসন্ন হয়ে পড়তে পারে। অনেক সময় ঘুম ভাঙার পর ঝিমুনি বা মাথা ভার লাগার সমস্যাও হয়। তাই দুপুরের বিশ্রাম যেন খুব বেশি দীর্ঘ না হয়। ঠান্ডা বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় অল্প সময়ের ঘুমই সবচেয়ে কার্যকর। ফ্যান, কুলার বা পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল থাকলে শরীর দ্রুত আরাম পায়। ২০ মিনিটের বিশ্রাম শরীরকে সতেজ করতে পারে, কিন্তু এক ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুম অনেক সময় রাতের ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।

বয়স্কদের জন্য কেন বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমতে থাকে। ফলে বয়স্ক মানুষরা তুলনামূলক দ্রুত ডিহাইড্রেশনে ভোগেন এবং গরমের ধকল বেশি অনুভব করেন। শহরের কংক্রিটের পরিবেশ, কম সবুজ এবং রাতেও গরম— এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রবীণদের ক্ষেত্রে দুপুরের সামান্য বিশ্রাম শরীরের উপর চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে তার সঙ্গে পর্যাপ্ত জলপান এবং ঠান্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।

মাঝেমধ্যে একটু-আধটু ঘুম উপকারী। ছবি: সংগৃহীত

শুধু ঘুম নয়, জলও জরুরি
পাওয়ার ন্যাপ কোনওভাবেই জল, পুষ্টিকর খাবার বা সঠিক বিশ্রামের বিকল্প নয়। গরমে সবচেয়ে বড় বিপদ হল শরীরের জলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া। তাই নিয়মিত জল পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেষ্টা না পেলেও।

গরমে যতটা সম্ভব সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। হালকা পোশাক পরা, জলসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং দুপুরের চড়া রোদে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া কমানো দরকার। পাশাপাশি রাতের ভালো ঘুমও অত্যন্ত জরুরি, কারণ দিনের সামান্য ঘুম কখনওই রাতের পূর্ণ বিশ্রামের বিকল্প হতে পারে না।

মনে রাখুন
তাপপ্রবাহ এখন শুধু অস্বস্তি নয়, এটি ধীরে ধীরে শরীর ও মস্তিষ্কের উপর দীর্ঘ প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে দিনের বেলার পাওয়ার ন্যাপ শরীরকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, ক্লান্তি কমাতে পারে এবং মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গরম মোকাবিলার আসল উপায় হল শরীরকে ঠান্ডা রাখা, পর্যাপ্ত জল পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সঠিক বিশ্রাম নেওয়া। দুপুরের সামান্য ঘুম সেই লড়াইয়ে একটি সহায়ক হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু একমাত্র সমাধান নয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement