গরমের দুপুরে ঠান্ডা তরমুজ খেতে খেতে হঠাৎ যদি একটি বীজ গিলে ফেলেন, অনেকেই ভয়ে পেয়ে যান। ছোটবেলা থেকেই আমাদের অনেকের মনে একটা ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে নাকি পেটে গাছ গজাবে! বীজ পেটে গেলে নাকি দেখা দেবে পেটের গোলযোগ! বাস্তবে কিন্তু এমন কিছুই হয় না। বরং এই ছোট বীজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নানা পুষ্টিগুণ।
মিথ ভেঙে সত্য
তরমুজের বীজ গিলে ফেললে সাধারণত কোনও ক্ষতি হয় না। এগুলো শরীরের ভেতর গেলও অপরিবর্তিত অবস্থায় বেরিয়ে যায়। তবে সঠিকভাবে খেলে এই বীজ শরীরের জন্য পুষ্টির ভান্ডার হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
পুষ্টিগুণে ভরপুর
তরমুজের বীজ ছোট হলেও এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে-
প্রোটিন: এই বীজে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রোটিন থাকতে পারে। এতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরের শক্তি বাড়াতে ও হার্টের জন্য় উপকারী।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: তরমুজের বীজে মনো ও পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য় করে।
ম্যাগনেসিয়াম: হৃদ্যন্ত্রের কাজ স্বাভাবিক রাখতে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতায় ম্যাগনেসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
জিঙ্ক: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিঙ্ক খুব প্রয়োজনীয়। তরমুজের বীজ সেই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
আয়রন: রক্ত তৈরি ও ক্য়ালরি ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা বিশেষ করে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে উপকারী।
কী উপকার?
- হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে
- বজায় রাখে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও আর্দ্রতা
- শরীরের শক্তি ও বিপাকক্রিয়াকে করে উন্নত
- গরমে শরীরের ক্লান্তি কমাতে দারুণ কার্যকরি
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে খাবেন?
কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে খুব বেশি পুষ্টি পাওয়া যায় না। বীজ আলাদা করে খাওয়াই ভালো। খাওয়ার সহজ উপায়-
- বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিন
- হালকা ভেজে নিন
- সামান্য নুন, লঙ্কা বা আমচুর মিশিয়ে খেতে পারেন
- স্য়ালাড বা স্মুদিতেও ব্যবহার করা যায়
সতর্কতা
সব ভালো জিনিসই পরিমিত খাওয়াই জরুরি। বেশি খেলে হজমে অস্বস্তি বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। তাই এক মুঠোই যথেষ্ট।
গরমের দিনে তরমুজ খেতে খেতে যদি কোনও বীজ মুখে পড়ে যায়, সেটাকে আর বিরক্তিকর মনে করার দরকার নেই। ছোট এই বীজই হতে পারে শরীরের জন্য প্রাকৃতিক পুষ্টির এক সহজ উৎস।
