এই গ্রীষ্মে বাড়ির শোয়ার ঘরটিতে এয়ার কন্ডিশনার (air conditioner) লাগাবেন— এমনটা মনস্থির করেই ফেলেছেন। কিন্তু ঠিকঠাক ওজনদার কোনও এসির দাম নেহাত কম নয়। তাই পকেট খালি করার আগে, কেমন এসি কিনলে ভালো হয়, সেই নিয়ে বিস্তর ভাবতেই হয় গৃহস্থকে। আর এসিরও রয়েছে রকমফের। কোনওটা ঘর জুড়ে থাকে, কোনওটায় বা বিদ্যুৎ খরচ হয় বেশি। আপনার ঘরের জন্য উপযোগী কোনটি, তা কিনতে যাওয়ার আগে খানিক বিচার করে নেওয়া ভালো।
স্প্লিট এসি
১। স্প্লিট এসি
বর্তমানে ঘরে ঘরে এই ধরনের এসি-ই দেখতে পাওয়া যায় বেশি। স্প্লিট অর্থাৎ দু’ভাগে বিভক্ত। এসির হাওয়া বেরোনোর অংশটি ঘরের ভিতর দেওয়ালের উপরদিকে বসানো। অন্য অংশটি অর্থাৎ কম্প্রেসার ও কনডেনসর বাইরের দিকে, জানলার সানশেডের উপর বসানো হয় সাধারণত। চালানো, বন্ধ করা সহজ। সার্ভিসিং করাতে হলে, মূলত বাইরের অংশটি নিয়েই কাজ। বিদ্যুৎ কম পোড়ে। চটজলদি ঘরের গরম হাওয়া সরে গিয়ে, ছড়িয়ে পড়ে শীতল হাওয়া।
২। উইন্ডো এসি
এসির এমন ডিজাইন সাবেকি বলা চলে। দেওয়ালের উপরের অংশে এসি লাগানোর জায়গা না থাকলে, ঘরের কোনও এক জানলায় বসিয়ে নেওয়া যায় এই যন্ত্র। তবে আকারে বড়, ‘বিল্ট-ইন ইনভার্টার কম্প্রেসর’ থাকার সম্ভাবনাও নেই। তবে দামে অনেকটাই কম। সার্ভিসিং অপেক্ষাকৃত সহজ। ফলে কেউ যদি ভাড়ার বাড়িতে থাকেন, এই ধরনের এয়ার কন্ডিশনারের কথা ভেবে দেখতে পারেন।
৩। পোর্টেবল এসি
অনেকেই দেওয়াল কেটে এসি বসাতে খানিক দ্বিধা করেন। হয়তো এই বাড়িতেই আজীবন থাকার ব্যাপার নেই। অথবা বাড়ির ঘরটি সাজানো এখনও শেষ হয়নি। এমন অবস্থায় বেছে নিতে পারেন পোর্টেবল এসি। কিন্তু জানেন কি, সবচাইতে বেশি বিদ্যুৎ টানে এই ধরনের এয়ার কন্ডিশনারই। চওড়া ডাক্টের সাহায্যে ঘরের ভিতরে গরম হাওয়া বাইরে বের করে এই যন্ত্র, অনেক সময়েই তা ঠিকমতো কাজ না করার ফলে ‘নেগেটিভ প্রেশার’ তৈরি হয়, যে কারণে ঘর ঠান্ডা হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
পোর্টেবল এসি এবং উইন্ডো এসি
গৃহস্থ কোন এসি বেছে নেবেন, সে সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তারই। তবু এককালীন বড় খরচ করতেই হলে, যতটা সম্ভব সবদিক ভেবে নিতে পারলেই ভালো। এসি চালানোর ক্ষেত্রেও সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। সারাদিন একনাগাড়ে চালানোর বদলে মাঝে মাঝে অফ করতে হবে। বদলে ফ্যান চালিয়ে, জানলা খুলে প্রাকৃতিক হাওয়াকে ঘরে প্রবেশ করতে দিতে হবে। ভুললে চলবে না যে দীর্ঘ সময় এসির হাওয়ায় থাকা মানব শরীরের পক্ষেও ভালো নয়।
