শখের ছাদবাগান করেছেন, টবে টবে ভরে উঠেছে রঙবেরঙের ফুল। আরও একটু সাজিয়ে তুলতে, গৃহস্থ খোঁজ করছেন উপযোগী সারের। আর তাতেই দেখা দিয়েছে হাজারও প্রশ্ন। কৃত্রিম সার কেনা কি উচিত হবে? বাজারচলতি এত সারের মধ্যে সস্তা অথচ কার্যকরী হবে কোনটা?
জানেন কি, এতসব ঝঞ্ঝাট দিব্যি এড়িয়ে, ছাদবাগানের জন্য প্রাকৃতিক সার (natural fertilizer) বানিয়ে নেওয়া যায় বাড়িতেই। ভাবছেন ঝক্কির কাজ? একেবারেই না! সার বানাতে যা যা প্রয়োজন, সব রয়েছে বাড়ির রান্নাঘরেই! তাও আবার বাতিলের তালিকায়। আজ্ঞে হ্যাঁ, রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া জিনিসেই তৈরি হবে এমন জৈব সার, যা ছোট ফুল অথবা সবজির গাছের পুষ্টি বাড়াতে সাহায্য করবে।
কলার খোসা
রয়েছে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও নানান খনিজ। জলে ভিজিয়ে পচিয়ে, গোলাপ, জবা, জুঁই প্রভৃতির গোড়ার মাটিতে মিশিয়ে দিন। অল্পদিনেই দেখতে পাবেন, নতুন পাতায় ভরে গিয়েছে গাছ।
চা পাতা
দুধ-চিনির নির্যাস মিশে গিয়ে থাকলে, ধুয়ে শুকিয়ে নিন ব্যবহৃত চা পাতা। ঝুরঝুরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিন ভালোভাবে। এমন মাটিতে জল দিলে, তপ্ত দুপুরেও মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে। গাছের গোড়া শুকিয়ে খটখটে হয়ে যায় না।
ডিমের খোলা
প্রাকৃতিক ক্যালসিয়ামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎস। আঠালো ভাব শুকিয়ে, গুঁড়ো করে নিন। মেশানোর সময় খেয়াল রাখুন, মাটির অনুপাতে ডিমের খোলার পরিমাণ যেন কম হয়। টোমেটো ও লঙ্কাগাছের গায়ে সহজে পোকা লেগে যায়। এই গুঁড়ো মেশানো থাকলে সে সম্ভাবনা কমে।
সবজির খোসা
সবজির মতো তার খোসাতেও থাকে নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ। ফেলে দেওয়ার বদলে তা পচিয়ে তৈরি করা যায় উন্নতমানের সার। গাছের বৃদ্ধিতে তা কাজে লাগে।
চাল ধোয়া জল
পাতাবাহার গাছ অথবা শাক জাতীয় উদ্ভিদে পুষ্টি দেয় চাল ধোয়া জলে থাকা মাড়। তবে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে খানিক সচেতন হওয়ার প্রয়োজন। কারণ নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের চালের জল মাটি খারাপ করতে পারে।
এতে একদিকে গাছেদের ভালো হয়, সার কেনার খরচ বাঁচে। অন্যদিকে গৃহস্থ বাড়িতে প্রাত্যহিক যে বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্য উৎপাদিত হয়, তার কমানো সম্ভব হয়। তবে যে কোনও সার দেওয়ার আগেই গাছটির তা প্রয়োজন কি-না, যাচাই করে নেওয়া জরুরি। নয়তো ভালোর চাইতে ক্ষতির পথ প্রশস্ত হবে।
