দিন দিন বাড়ছে গরম। আর এই দাবদাহে এসি ছাড়া মুক্তি নেই। ভ্যাপসা গরমে এখন এসি-ই পরম বন্ধু। অফিস হোক বা বাড়ি, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরেই কাটে দিনের বেশিরভাগ সময়। এতে শরীরের আরাম মেলে ঠিকই, তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য কি আদৌ ভালো? চিকিৎসকরা বলছেন, একটানা এসি ঘরে থাকলে ফুসফুসের বারোটা বাজতে বাধ্য। কিন্তু এই দহনে এসি ছাড়া থাকাও অসম্ভব। তাই সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
ছবি: সংগৃহীত
এসি শুধু ঘর ঠান্ডা করে না, বাতাসের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও শুষে নেয়। ঘরের আদর্শ আর্দ্রতা হওয়া উচিত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। অথচ এসি চললে তা নিমেষে ২০ শতাংশে নেমে আসে। এই শুষ্ক হাওয়া সরাসরি আমাদের নাকের ভেতরকার মিউকাস স্তরের ওপর প্রভাব ফেলে। আস্তরণটি শুকিয়ে গেলে ভাইরাস বা দূষণ রোখার স্বাভাবিক ক্ষমতা শরীর হারিয়ে ফেলে। ফলে হাঁচি, কাশি এবং অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ে। সাইনাস বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। একেই চিকিৎসকরা অনেক সময় ‘সামার কোল্ড’ বলেন।
আর্দ্রতা ফেরানোর কৌশল
এসি চালালেও ঘরের আর্দ্রতা ধরে রাখা জরুরি। এর জন্য ‘হিউমিডিফায়ার’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এই যন্ত্রটি ঘরের ভেতরের জলীয় বাষ্পের ভারসাম্য ঠিক রাখে। ফলে শ্বাসযন্ত্র শুকিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। বিশেষ করে যাঁদের হাঁপানি বা সিওপিডি-র মতো পুরনো রোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি রক্ষাকবচ হতে পারে। বাতাসে অক্সিজেনের সঠিক মাত্রা বজায় থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
পরিচ্ছন্নতাই আসল চাবিকাঠি
অনেকেই দীর্ঘক্ষণ এসি চালালেও তার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেন না। এসির ফিল্টারে ধুলোবালি, ব্যাকটিরিয়া এবং ক্ষতিকারক ছত্রাক জমা হয়। যন্ত্রটি চালু করলেই সেই বিষাক্ত কণাগুলো সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে অন্তত মাসে একবার এসির সার্ভিসিং করানো বাঞ্ছনীয়।
ছবি: সংগৃহীত
সবুজেই মিলবে মুক্তি
প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে ইনডোর প্ল্যান্টের জুড়ি নেই। স্নেক প্ল্যান্ট, এরিকা পাম বা পিস লিলি ঘরের কোণে সাজিয়ে রাখতে পারেন। এই গাছগুলো বাতাস থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন শুষে নেয় এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে এসির কৃত্রিম ঠান্ডার মাঝেও মিলবে খানিকটা সজীবতা। মনে রাখবেন, সচেতন থাকলেই এসি ঘরে থেকেও সুস্থ থাকা সম্ভব।
