বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের আশ্রমে ১৪ মাসে ১৭ শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে উজ্জয়িনীর অঙ্কিত সেবাধাম আশ্রমে। ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এতগুলি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। নোটিস জারি করে ২ সপ্তাহের মধ্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত
জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ৮৬ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে ইন্দোরের যুগপুরুষ আশ্রম থেকে উজ্জয়িনীর অঙ্কিত সেবাধাম আশ্রমে পাঠানো হয়েছিল। উজ্জয়িনী শহর থেকে এই আশ্রমের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। গত ১৪ মাসে সেই ৮৬ শিশুর মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বয়স ১০ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। গোটা ঘটনা সামনে আসতেই তৎপর হয়েছে পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে শুরু হয়েছে তদন্ত। পাশাপাশি ঘটনা সামনে আসতেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। গোটা ঘটনায় জবাব তলব করা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব, মহিলা ও শিশুকল্যাণ দফতরের কমিশনার, উজ্জয়িনীর জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিশু ও নারীকল্যাণ আধিকারিক এবং সেবাধাম আশ্রম কর্তৃপক্ষকে।
স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। গোটা ঘটনায় জবাব তলব করা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব, মহিলা ও শিশুকল্যাণ দফতরের কমিশনার, উজ্জয়িনীর জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিশু ও নারীকল্যাণ আধিকারিক এবং সেবাধাম আশ্রম কর্তৃপক্ষকে।
বিজেপির শাসিত মধ্যপ্রদেশে এই ঘটনা অবশ্য প্রথমবার নয়। জানা যাচ্ছে, ইন্দোরের যে আশ্রম থেকে শিশুদের পাঠানো হয়েছিল সেই আশ্রমেও ২০২৪ সালে জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়েছিল আরও ৬০ জন। সেই সময় ইন্দোরের জেলাশাসক ছিলেন আশিস সিং। ঘটনার তদন্তে নেমে যুগপুরুষ আশ্রমের লাইসেন্স বাতিল করেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুদের পাঠানো হয় উজ্জয়িনীর অঙ্কিত সেবাধাম আশ্রমে
এর প্রতিক্রিয়ায়, তৎকালীন ইন্দোর কালেক্টর আশীষ সিং ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সেই আশ্রমের স্বীকৃতি বাতিল করে দেন এবং ৮৬ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। তারপর এখানেও একই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। যে হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা চলছিল সেই হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসার জন্য যে শিশুদের নিয়ে আসা হয় তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। আবার অনেককেই মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অনেক আবার চিকিৎসা চলাকালীন মারা যায়। যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের অনেকেরই রক্তাল্পতা ছিল বলে জানা যাচ্ছে।
