পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে বিজেপির দলীয় অফিসে বিস্ফোরণের ঘটনায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেনেড হামলার তদন্তে নেমে ৫ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পুলিশ জানতে পেরেছে এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। শুধু তাই নয় জানা যাচ্ছে, বিদেশে বসে এই হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়। পাকিস্তানি হ্যান্ডেলাররা পর্তুগাল ও জার্মানিতে বসে এই হামলার নির্দেশ দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। বিজেপির পার্টি অফিসের বাইরে ব্যাপক বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। পরে এই হামলার দায় নেয় খলিস্তানি সমর্থক সুখজিন্দর সিং বব্বর। পাশাপাশি হুমকি দিয়ে বলা হয়, পাঞ্জাবের মাটি খালসার মাটি। পাঞ্জাব খলিস্তান হবে। বিস্ফোরণের ঘটনার পর তদন্তে নামে পাঞ্জাব পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা ও চণ্ডীগড় পুলিশ। মামলার তদন্তে নেমে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ অভিযুক্তকে। পাশাপাশি হামলায় জড়িত প্রধান ২ অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি .৩০ বোরের পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
হামলায় জড়িত প্রধান ২ অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি .৩০ বোরের পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পুরো মডিউলটি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত। বিদেশে বসে থাকা হ্যান্ডেলারদের নির্দেশ কাজ করত এই গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীরা। পর্তুগাল ও জার্মানি থেকে অভিযুক্তদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল হামলা চালানোর। পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, নির্দেশ দেওয়ার জন্য মাঝে ব্যবহৃত হয়েছিল একাধিক সাব মডিউল। একাধিক মডিউলের রয়েছে আলাদা আলাদা কাজ। কেউ অস্ত্রের সরবরাহ, কেউ পরিবহণ তো কেউ হামলার কাজে নিযুক্ত। হামলার পর ৫ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দুই মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
এসএসওসি (স্টেট স্পেশাল অপারেশনস সেল)-এর এআইজি দীপক পারেখ বলেন, তদন্তে জানা গিয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বিভিন্ন হাত ঘুরে এইসব অস্ত্র হামলাকারীদের কাছে পৌঁছায়। পুলিশের দাবি, এই সন্দেহভাজন জঙ্গিরা শুধু পার্টি অফিসে হামলা নয়, দেশের একাধিক জায়গায় হামলার পরিকল্পনা ছিল এদের। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারি নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য।
