এ যেন, বাঘের ঘরেই ঘোগের বাসা! প্রতিরক্ষা দপ্তরের গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগ বায়ুসেনারই এক কর্মীর বিরুদ্ধে। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ওই যুবকের নাম সুমিত কুমার। রবিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে রাজস্থানের গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযোগ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে গোপন সামরিক তথ্য পাচার করেছেন ওই বায়ুসেনা কর্মী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল রাজস্থানের এক যুবককে। ঝাবারা রাম নামের সন্দেহভাজন ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন বায়ুসেনার অন্দরে রয়েছে পাকিস্তানের এক গুপ্তচর। সেইমতো তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা ৩৬ বছরের সুমিতকে। জানা গিয়েছে, তিনি অসমের (Assam) ডিব্রুগড়ে এয়ারফোর্স স্টেশনে মাল্টি টাস্কিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলে। সেনায় কাজের সুবাধে নানা সামরিক গোপন তথ্য তার কাছে থাকত। সেই সব তথ্য সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে পাঠাতেন ওই যুবক।
২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সুমিতের। টাকার বিনিময়ে সেনার গোপন তথ্য তিনি পাঠাতেন পাকিস্তানে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, বায়ুসেনার অন্দরে গুপ্তচরের খবর পেয়ে গোপন অভিযানে নামে রাজস্থানের গোয়েন্দা বিভাগ ও এয়ারফোর্স ইন্টেলিজেন্স। এরপর সন্দেহভাজন যুবকের কীর্তিকলাপের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেপ্তার করা হয় সুমিতকে। বর্তমানে তাঁকে আটক করে জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সুমিতের। টাকার বিনিময়ে সেনার গোপন তথ্য তিনি পাঠাতেন পাকিস্তানে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ইতিমধ্যেই অসমের চাবুয়া ও রাজস্থানের বিকানেরের নাল এয়ারফোর্সের গোপন তথ্য যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান, সব পাকিস্তানে পাঠিয়েছেন তিনি। গত ২২ মার্চ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে জয়পুর পুলিশের তরফে।
