নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বিজেপির কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকায় বাংলার কোনও নেতা নেই। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলার কাউকে কেন্দ্রীয় পদাধিকারী তালিকায় জায়গা দেয়নি। এবার সেই তালিকায় রদবদল আসন্ন। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এই দফায় কি ছবিটা কিছু হলেও বদলাবে, না কি ফের উপেক্ষিতই থাকবে বাংলা।
বিজেপি সূত্রের খবর, মকর সংক্রান্তির পর দলের নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি নীতিন নবীন আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সেই পর্ব মিটে গেলেই নিজের টিম সাজাতে পারেন তিনি। চলতি জানুয়ারির মধ্যেই সেই টিম গঠনের পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেখানে বাংলার কোনও নেতার জায়গা হয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে রাজ্যে বিজেপি ধাক্কা খাওয়ার পর বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজ্য নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেই বাংলার কেউ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা পাননি। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের সময় বাংলার গুরুত্ব বাড়লেও বাকি সময়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব এ রাজ্যকে উপেক্ষাই করে থাকে। তার বড় প্রমাণ হিসাবে উঠে আসছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ছবি। ২০১৯-এ বাংলা থেকে দল ১৮টি লোকসভা আসন জেতার পরও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বাংলার কাউকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ২০২৪-এ আসন সংখ্যা কমে ১২-তে নেমে যাওয়ার পরও ছবিটা একই থেকে গিয়েছে। পার্শ্ববর্তী অসম, বিহার ও ওড়িশা থেকে একাধিক পূর্ণমন্ত্রী থাকলেও বাংলার ঝুলিতে এসেছে শুধু রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ। বিজেপির কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকাতেও একই ছবি স্পষ্ট।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই 'উপেক্ষা'র ছবি কি এবার কিছুটা হলেও বদলাবে? সামনেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই বিজেপির কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, প্রথম সারিতে না হলেও, দ্বিতীয় সারির কেন্দ্রীয় দায়িত্বে বাংলার কাউকে জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
এদিকে বাংলা থেকে কোনও দলীয় নেতাকে কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের দলে অন্তর্ভুক্তি ঘিরে জল্পনার মধ্যেই বছরের প্রথম দিন কল্পতরু উৎসবে যোগ দিয়েছেন নীতিন নবীন। বৃহস্পতিবার পাহাড়গঞ্জের রামকৃষ্ণ মিশনে পুজো দেন তিনি। মন্দিরে গিয়ে রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের সঙ্গে মত বিনিময়ও করেন। পুজো দেওয়ার পর বলেন, "রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা বিহার ও বাংলা-সহ সারা দেশের যুব সমাজের কাছে অসীম প্রেরণার উৎস।" বাংলার ভোটের দিকে তাকিয়েই বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির কল্পতরু উৎসবে যোগদান কি না, জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।
