বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: মতুয়া ভোট নিয়ে গেরুয়া শিবিরের ড্যামেজ কন্ট্রোলে ময়দানে নির্বাচন কমিশন! বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনে এবার সিএএ সার্টিফিকেট প্রামান্য নথি হিসবে গ্রহণ করা হবে বলে জানাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই দেখা গিয়েছে একাধিক মতুয়ার নাম বাদ পড়েছে। মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে বিজেপি নেতাদের পারস্পরিক বিতর্কিত বক্তব্যে মতুয়াদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মতুয়া ভোট ব্যাংকে ধ্বস নামার আশঙ্কায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ময়দানে নামেন। কিন্তু তাতেও ড্যামেজ কন্ট্রোল না হওয়ায় এবার সরাসরি কমিশনকে কাজে লাগাল দেরুয়া শিবির!
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)- এর শংসাপত্র এবার SIR এর প্রামাণ্য নথি হিসেবে পেশ করা যাবে বলে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, নাগরিকত্ব সম্পর্কিত যেকোনো নথি প্রামাণ্য হিসাবে দাখিল করা যাবে। কমিশন নির্দেশ দেওয়ার পরেই জেলায় জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের পোর্টালে বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তেমনই ম্যাপিংয়ের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক যোগ দেখছে রাজনৈতিক মহল। তাদের মতে, বিজেপির চাপে কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল। সেই সঙ্গে কমিশন চাইছিল মতবাদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল তা কাটাতে। কারণ মতুয়াদের মধ্যে সংশয় থাকলে বিজেপির জনসমর্থনে প্রভাব পড়বে। ফলে খোলাখুলি ভাবেই বিজেপির হয়ে ব্যাট করতে নামলো কমিশন! মত রাজনৈতিকমহলের।
অন্যদিকে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের কথা ভেবে SIR শুনানি (SIR Hearing in West Bengal) নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে কর্মক্ষেত্রে বা পড়াশোনার জন্য রাজ্যের বাইরে থাকলে এসআইআর (SIR in Bengal) শুনানিতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। অনলাইনে নথি জমা দিলেই হবে। বুধবার এমনটাই জানিয়েছে কমিশন। ওই নথি জমা করার জন্য আলাদা একটি পোর্টাল তৈরি হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভিনরাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক, পড়ুয়া ও কর্মসূত্রে বাইরে থাকা ব্যক্তি যারা শুনানিতে হাজির হতে পারবেন না তাদের জন্য একটি পোর্টাল চালু করা হবে। সেই পোর্টালে প্রামাণ্য নথি দিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন তাঁরা। সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। দ্রুত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হবে। রাজ্যের বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।
