সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেননি বলেই ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে গিয়েছে! এমনই দাবি করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সেই দাবি নস্যাৎ করেছে। এ বার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর আর্জি, বিদেশি রাষ্ট্রের ভাষ্যের উপর নয়, দেশের উপর আস্থা রাখুন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মোদিকে নিয়ে বেশ কিছু বিবৃতি দিয়ে ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন ট্রাম্প। দাবি করেছেন, যুদ্ধ-কপ্টারের চুক্তি নিয়ে কথা বলতে এসে একবার তাঁকে 'স্যর' বলে সম্বোধন করেছিলেন মোদি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নিয়ে নয়াদিল্লি কিছু বলার আগেই মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক দাবি করে বসেন, ভারত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ হাতছাড়া করেছে। লুটনিকের দাবি, "মোদি যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করেন, সে কথা ভারতকে বলেছিলাম। কিন্তু ওরা স্বচ্ছন্দ ছিল না। তাই মোদি ফোন করেননি।"
লুটনিকের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সবিস্তার বিবৃতির পর পীযূষের বক্তব্য, "নিজের দেশের প্রতি আস্থা রাখুন। বিদেশি রাষ্ট্রের বিবৃতিতে নয়।" সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তার জবাবে পীযূষ জানান, বাণিজ্যচুক্তির খুঁটিনাটি বন্ধ ঘরেই আলোচনা হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ ভাবে প্রকাশ্যে নয়।
প্রসঙ্গত, বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, আমেরিকার বাণিজ্য সচিব যে ভাবে ঘটনার বর্ণনা করেছেন, তা সঠিক নয়। ২০২৫ সালে ভারত ও আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আট বার ফোনে কথা হয়েছে। ভারত যে এখনও বাণিজ্য চুক্তি চাইছে, তা-ও স্পষ্ট করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। মোদি ট্রাম্পকে ‘স্যর’ বলে দেখা করার অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা নিয়েও বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দু’জনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কূটনৈতিক প্রথা মেনে সম্মানের সঙ্গেই একে অপরকে সম্বোধন করেন। সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভারত যদি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা না কমায়, তা হলে ভারতীয় পণ্যে ৫০০% শুল্ক চাপাতে পারেন তিনি। এ নিয়ে রণধীর বলেছেন, নয়াদিল্লি এ বিষয়ে অবহিত। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
