সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হিমাচল প্রদেশে কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়ে যাওয়া অধ্যাপককে সাসপেন্ড করলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। তিনি বলেন, "এই মুহূর্ত থেকে অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। তদন্তও শুরু হয়েছে।"
ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করেছে হিমাচলের মহিলা কমিশন। চেয়ারপার্সন বিদ্যা নেগি বলেন, "আমরা ব্যাপারটা দেখছি। এসপি-র সঙ্গেও কথা বলেছি। লিখিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছি। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।"
যদিও অভিযুক্ত অধ্যাপক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই ছাত্রীটি আগের শিক্ষাবর্ষে তাঁর আওতায় পড়াশোনা করতেন। কিন্তু চলতি শিক্ষাবর্ষে তাঁদের কোনও যোগ নেই। কলেজের অন্য অধ্যাপকেরাও অভিযুক্ত অধ্যাপকের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মৃত ছাত্রীর বাবা ইতিমধ্যেই ওই অধ্যাপক এবং তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে লাগাতার র্যাগিং করা হত। তাঁর উপর চলত শারীরিক নির্যাতনও। লাগাতার হেনস্থার জেরেই ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে তাঁর মেয়ের। প্রথমে হিমাচলের একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয় তাঁর, শেষে পাঞ্জাবের লুধিয়ানার একটি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। ২৬ ডিসেম্বর ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় মেয়েটির।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে কলেজের ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মৃত ছাত্রীর প্রতি অশালীন ব্যবহারের অভিযোগও এনেছেন বাবা। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে একটি ভিডিয়ো জমা দিয়েছেন তিনি। যেখানে দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ছাত্রীটি তাঁর মাকে বলছেন, কী ভাবে ওই অধ্যাপক বিভিন্ন সময় তাঁকে স্পর্শ করতেন। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তে র্যাগিং, ছাত্রীটিকে ভয় দেখানো, যৌন হেনস্থার মতো অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, পরীক্ষায় পাশ করতে না পেরে ওই ছাত্রী মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছিলেন। সেই কারণেই তাঁর শরীর ভাঙতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
