এই মুহূর্তে গোটা দেশে বাম রাজনীতি সংকটে। সাংসদ-বিধায়ক সংখ্যা নগণ্য। দেশের কোনও রাজ্যে বামেরা ক্ষমতায় নেই। শেষ দুর্গ কেরলও হাতছাড়া হয়েছে সদ্য। কিন্তু কেন এই বিপর্যয়? আত্মবিশ্লেষণ করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পেল সিপিএম। কেরল সিপিএমের পরাজয়ের কারণ হিসাবে মূলত দু'টি ফ্যাক্টর উঠে এসেছে। এক, নরম হিন্দুত্ব। দুই, অতিরিক্ত পিনারাই বিজয়ন নির্ভরতা।
বিজয়ন নির্ভরতা যে ডোবাতে পারে, সে ইঙ্গিত আগেই ছিল। কেরলে এমনিই প্রতি পাঁচ বছরে অন্তর সরকার বদলায়। ১০ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার বিরুদ্ধে লড়াই করে জেতাটা কঠিন সেটা জানা ছিল। তাছাড়া বিজয়নের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দুর্নীতিরও অভিযোগ ছিল। তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে ইডি বিস্তর কেলেঙ্কারির অভিযোগ এনেছিল। সিপিএমের বিশ্লেষণে যেটা উঠে এসেছে সেটা হল, "ভোটের পুরো প্রচারটা বিজয়ন কেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ায়, ইউডিএফ প্রচারে সুবিধা পেয়ে যায়। শুধু বিজয়নকে নিশানা করেই প্রচারে অ্যাডভান্টেজ পেয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা।"
বিজয়নের উপর নির্ভরতা সিপিএমকে ডুবিয়েছে, সেটা দলের জন্য খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে বামেদের যেটা বেশি চিন্তায় রাখছে সেটা হল দ্বিতীয় পয়েন্ট। বামেদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, নরম হিন্দুত্বের নীতি নিতে গিয়ে ডুবেছে সিপিএম। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, "আইয়াপ্পার নামে সমাবেশ করে সেখানে যোগী আদিত্যনাথের মতো হিন্দুত্ববাদী আইকনের বার্তা পাঠ করাটা বড়সড় ভুল ছিল। সেটা সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে ভুল বার্তা দিয়েছে। সিপিএমের জোটসঙ্গী ভেল্লাপল্লি নাতেসনের মুসলিম বিরোধী মন্তব্যও সিপিএমের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিতে ধাক্কা দিয়েছে।" তাছাড়া সিপিএম-বিজেপি আঁতাত নিয়ে যে প্রচার বিরোধী শিবির করেছিল, সেটাও সাফল্য দিয়েছে বিরোধীদের।
বস্তুত গোটা দেশে বামেদের ভরাডুবির কারণ হিসাবে অনেকেই পার্টির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বদলকে দায়ী করছে। কেরলে যেখানে নরম হিন্দুত্ব ডুবিয়েছে, তেমনই বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যে অতিরিক্ত সংখ্যালঘু হৃদ্যতা ডোবাচ্ছে বামেদের। আপাতত পার্টির ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারই আসল চ্যালেঞ্জ সিপিএমের।
