সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিতর্কের মুখে অবশেষে পিছু হঠল লোকপাল। ৭০ লাখি সাত বিএমডব্লুউ কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন ভারতের এই দুর্নীতিদমন কর্তৃপক্ষ। এমনটাই দাবি করা হল সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সব মিলিয়ে পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে মোট সাতটি বিএমডব্লুউ কেনার কথা ভেবেছিল লোকপাল। গত বছর অক্টোবরে তার টেন্ডারও ডাকা হয়েছিল। সম্প্রতিই সেই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। বরাত বাতিলের সেই নথি তারা ঘেঁটে দেখেছে বলেই দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তাদের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, বরাত বাতিলের নথি বলছে, প্রশানসিক কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর লোকপালের ফুল বেঞ্চ বৈঠকে বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশে এই মুহূর্তে লোকপালের প্যানেল সাত সদস্যের। চেয়ারপার্সন ছাড়া আর ছয় সদস্য রয়েছেন তাতে। তাঁদের সকলের জন্যই একটি করে বিএমডব্লিউ কেনার টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। আবার যেমন তেমন বিএমডব্লিউ নয়। একেবারে ‘হাই এন্ড’ মডেলের কথাই বলা হয়েছিল বরাতের নথিতে। শর্ত ছিল, গাড়ির রং সাদা হতে হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিএমডব্লুউ-র যে মডেলটির কথা বলা হয়েছিল বরাতের নথিতে, সেটির দাম রেজিস্ট্রেশন-সহ যাবতীয় খরচ ধরে প্রায় ৭০ লাখ। বরাত দেওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে সাতটি গাড়ি যাতে দিল্লির বসন্তকুঞ্জে লোকপালের সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে কথাও বলা হয়েছিল নথিতে। পাশাপাশি এ-ও বলা হয়েছিল, গাড়ির ডেলিভারি দিতে ৩০ দিনের বেশি সময় না লাগে।
লোকপালে এই বিএমডব্লুউ কেনার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই বিতর্ক শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন ওঠে লোকপালের কার্যকারিতা নিয়েও। বিরোধীদের অভিযোগ, লোকপাল কাজ শুরুর পরে ৮,৭০৩টি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার মধ্যে ২৪টি ঘটনায় তদন্ত হয়েছে। পাল্টা লোকপাল সূত্রের বক্তব্য ছিল, আইন মেনে লোকপালের চেয়ারপার্সন ও সদস্যদের বেতন, ভাতা, সুবিধার শর্তানুসারেই বিএমডব্লিউ গাড়ির বরাত দেওয়া হয়েছিল। লোকপালের চেয়ারপার্সন দেশের প্রধান বিচারপতির সমান সুযোগ-সুবিধা ও লোকপালের অন্য সদস্যেরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সমান সুবিধা পেয়ে থাকেন। যদিও তাতে বিতর্ক থামেনি। শেষমেশ কার্যত পিছুই হঠতে হল লোকপালকে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সাল থেকে ভারতে ‘লোকপাল’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেক বার বিল পাশের চেষ্টাও হয়। কিন্তু মনমোহন সিংহ সরকারের একেবারে শেষ লগ্নে এসে বিষয়টি মাথাচাড়া দেয়, যখন সমাজকর্মী অণ্ণা হজারে এই নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। অণ্ণার চাপে বিলটি ২০১৩ সালেই পাশ হয়ে যায়। তার পর নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পরেও লোকপাল নিয়োগ হয়নি। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণদের সংস্থা ‘কমন কজ’ সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরে আদালতের চাপে দেশে লোকপাল নিয়োগ হয়।
