সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: ছাব্বিশের আগে ফের একজোট হয়ে কংগ্রেসের ঝান্ডা ধরল মালদহের কোতওয়ালি পরিবার। তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর (Mausam Benazir Noor)। দিন তিনেক আগেই তৃণমূলের তরফে মালদহের চার বিধানসভা কেন্দ্রের কো অর্ডিনেটর করার হয়েছিল তাঁকে। তবে এবার তিনি ফিরলেন পুরনো দলেই।
শনিবার দিল্লির কংগ্রেস দপ্তরে গিয়ে যোগদান পর্ব সম্পন্ন করেছেন মৌসম। দলে যোগ দিয়ে তাঁর বক্তব্য, "কংগ্রেসকে ধন্যবাদ জানাই আমায় গ্রহণ করার জন্য। আমরা কংগ্রেস পরিবার। কয়েক বছর তৃণমূল ছিলাম। অনেক সুযোগ দিয়েছে কাজ করার। মমতাদিকে পদত্যাগ পাঠিয়ে দিয়েছি। সোমবার রাজ্যসভায় ইস্তফা দেব। পরিবারগত ভাবে ঠিক করেছি একসঙ্গে কাজ করব। যেভাবে দায়িত্ব দেবে, করব। সেক্যুলারিজম, ডেভেলপমেন্ট, পিস - এটাই কংগ্রেসের মন্ত্র। সেভাবেই কাজ করব।" কেন দলত্যাগ? তৃণমূলে কি মোহভঙ্গ? মৌসম বলছেন, মোহভঙ্গের ব্যাপার নেই, এটা পরিবারের সিদ্ধান্ত।
২০০৯ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তরে জয়লাভ করেছিলেন গনির ভাগ্নি মৌসম বেনজির নুর (Mausam Benazir Noor)। ২০১৪ সালেও ‘হাত’ প্রতীকে সাংসদ নির্বাচিত হন মৌসম। কিন্তু উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ঘটে যায় অঘটন। হাত ছেড়ে ঘাসফুল প্রতীকে প্রার্থী হতেই মালদহ উত্তর হাতছাড়া হয় মৌসমের। ত্রিমুখী লড়াইয়ের ভোট ভাগাভাগিতে জয়লাভ করেন বিজেপির খগেন মুর্মু। তারপর মৌসম নুরকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করে তৃণমূল। ২০২৪-এ তাঁকে আর প্রার্থী করা হয়নি। এমনকী একুশের বিধানসভাতেও তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা থাকলেও তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি।
আসলে মালদহের রাজনীতিতে গণিখান চৌধুরী মিথে পরিণত হয়েছেন। রাজনীতিতে মৌসমের পরিচিতও মূলত গণি পরিবারের সদস্য হওয়ার দরুণই। পরিবারের বাইরে বেরিয়ে সেভাবে নিজের জন্যা রাজনৈতিক জমি তৈরি করতে পারেননি তিনি। এদিকে এই মুহূর্তে গণি পরিবারের আর এক সদস্য ঈশা খান চৌধুরী কংগ্রেসের টিকিটে দক্ষিণ মালদহ থেকে সাংসদ। সম্ভবত সেকারণেই কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত মৌসমের। তাঁর যোগদানে গণিখানের পরিবার ফের একজোট হয়ে কংগ্রেসের ঝান্ডা ধরল। যা মালদহের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ।
দলের মেয়ের ঘর ওয়াপসিতে মালদহের কংগ্রেস মরা গাঙে বানের আশায়। যদিও তাঁর যোগদানে আদৌ দলের বিশেষ উপকার হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে দলের অন্দরে। আর মৌসমের দলত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল।
