সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: ৭ বছর পর তৃণমূল ছাড়লেন তিনি। ছাব্বিশের ভোটের মুখে পুরনো ঘাঁটি মালদহে খানিক শক্তি বাড়ল কংগ্রেসের। কিন্তু কেন তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ? কোথাও কি দলের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল? দলে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না? মৌসম নূর বলছেন, একেবারেই না। বরং তৃণমূল তাঁকে এই সাত বছর যেভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞ। বাংলার শাসকদলের প্রতি কোনও অভিযোগ তাঁর নেই।
কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর অবধারিতভাবে তাঁর দিকে যে প্রশ্নটা ধেয়ে গিয়েছিল সেটা হল, কেন হঠাৎ মৌসমে এই বদল? সদ্য তৃণমূল ত্যাগী সাংসদ বলছেন, "এটা পুরোপুরি পরিবারের সিদ্ধান্ত। আমরা যেহেতু এক পরিবার আলাদা দলে থেকে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। আমরা গণিখানের লিগ্যাসিটাকে ধরে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের রাজনীতিতে আসা ওনাকে দেখেই। আমরা কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে চাই। গণিখানের লিগ্যাসিকে শক্তিশালী করতে চাই।"
২০০৯ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তরে জয়লাভ করেছিলেন গনির ভাগ্নি মৌসম বেনজির নুর। ২০১৪ সালেও ‘হাত’ প্রতীকে সাংসদ নির্বাচিত হন মৌসম। কিন্তু উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ঘটে যায় অঘটন। হাত ছেড়ে ঘাসফুল প্রতীকে প্রার্থী হতেই মালদহ উত্তর হাতছাড়া হয় মৌসমের। ত্রিমুখী লড়াইয়ের ভোট ভাগাভাগিতে জয়লাভ করেন বিজেপির খগেন মুর্মু। তারপর মৌসম নুরকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করে তৃণমূল। দলের একাধিক পদেও তিনি থেকেছেন। যদিও মৌসম ঘনিষ্ঠরা অনেকে বলে থাকেন, তিনি দলে উপযুক্ত সম্মান পাননি। সেই অভিযোগ তিনি নিজেই নস্যাৎ করে দিলেন। মৌসম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তৃণমূলের প্রতি কোনও ক্ষোভের জেরে নয়, তাঁর দলত্যাগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে পারিবারিক কারণে। মৌসম সাফ বলছেন, "কয়েক বছর তৃণমূল ছিলাম। অনেক সুযোগ দিয়েছে কাজ করার। সাংসদ হিসাবেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য মমতাদিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কিন্তু আমার দলবদলের সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ পারিবারিক।"
মৌসমের যোগদানে গণিখানের পরিবার ফের একজোট হয়ে কংগ্রেসের ঝান্ডা ধরল। যা মালদহের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল অবশ্য এই যোগদানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে কংগ্রেসের আশা, দলের মেয়ের ঘর ওয়াপসিতে মালদহের কংগ্রেস মরা গাঙে বান আসবে। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলছেন, "এটা শুধু ট্রেলার, পিকচার আপনারা দেখতে থাকুন। জানলা খোলা ছিল, দরজা খুলে দিলাম। আগামী দিনে মালদহের পাশাপাশি বাংলার রাজনীতিতেও আরও লোক উৎসাহিত হবেন।"
