বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান অজিত পওয়ার। তাঁর মৃত্যুর পর ‘অভিভাবকহীন’ হয়ে পড়েছে দল। এই পরিস্থিতিতে এনসিপি-র হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে মহরাষ্ট্রের রাজনীতিতে।
এনসিপি দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর দলের (অজিত গোষ্ঠী) সভাপতি পদে ছিলেন অজিত। সম্প্রতি একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছিল, তাঁর অবর্তমানে সভাপতি হতে চলেছেন প্রফুল্ল প্যাটেল। কিন্তু রবিবার সব জল্পনায় নিজেই জল ঢাললেন প্রফুল্ল। সাফ জানিয়ে দিলেন, এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। প্রফুল্ল তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘এনসিপি-র জাতীয় সভাপতি হিসাবে আমার নামে সিলমোহর দেওয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে যে প্রচার চলছে তা সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এনসিপি-তে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব এবং বিধায়কদের সঙ্গে পরামর্শের পরই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকলের ইচ্ছাকে সম্মান দেওয়া হয়।’
উল্লেখ্য, যে কোনও আঞ্চলিক দলের জন্যই প্রতিষ্ঠাতা বা তাঁর স্পষ্ট উত্তরাধিকারী থাকাটা জরুরি। সেটা না হলে আঞ্চলিক দলের পক্ষে অস্তিত্ব বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়। অতীতে বহু রাজনৈতিক দলের অবলুপ্তি বা অবক্ষয়, এই তত্ত্বই প্রতিষ্ঠিত করে। অজিতের মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল এনসিপির অস্তিত্ব নিয়ে। কারণ মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত অজিত ছিলেন রাজনীতির মধ্যগগনে। কাকা শরদ পওয়ারের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে সবে স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন। কিন্তু উত্তরসূরি বেছে দেওয়ার সময়টুকু তিনি পাননি। এই অবস্থায় অজিতের স্ত্রী সুনেত্রার উপর ভরসা রেখেই আপাতত টিকে থাকার যুদ্ধে এনসিপি।
