shono
Advertisement
SIR in West Bengal

'সুপ্রিম' হার কমিশনের! 'অসংগতি'র তালিকা প্রকাশের নির্দেশ, 'এবার ভোটে হারাব', প্রতিক্রিয়া অভিষেকের

লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সিতে যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁদের বিস্তারিত তালিকা টাঙাতে হবে পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিসে, নির্দেশ শীর্ষ আদালতের।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 02:49 PM Jan 19, 2026Updated: 05:32 PM Jan 19, 2026

বঙ্গে এসআইআর (SIR in West Bengal) মামলায় 'সুপ্রিম' ভর্ৎসনার মুখে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন ও দোলা সেনের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানান, 'লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি'র যুক্তি দেখিয়ে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তা প্রশাসনিক কার্যালয়গুলিতে টাঙানোর পাশাপাশি অনলাইনেও প্রকাশের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি রয়েছে, এমন ১.৩৬ কোটি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে বলা হয় সংখ্যাটা ৯৪ লক্ষ। এই তালিকাই প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আরও নির্দেশ, শুনানিতে ভোটাররা যে নথি দেবেন, তা গ্রহণ করে রসিদ দিতে হবে।

Advertisement

কী এই লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি বা যৌক্তিক অসংগতি, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, ''মা ও সন্তানের বয়স ১৫ বছরের ফারাক কীভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি হতে পারে? আমরা এমন দেশ বাস করি না, যেখানে বাল্যবিবাহ প্রথা উঠে গিয়েছে।'' এমনই একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে বিচারপতিরা জানান, লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সিতে যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁদের বিস্তারিত তালিকা টাঙাতে হবে পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিসে। এদিন শীর্ষ আদালতের বেশিরভাগ পর্যবেক্ষণ, মন্তব্যই তৃণমূলের পক্ষে গিয়েছে।আর তাতেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ''আজ কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাব।''

প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সিতে যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁদের বিস্তারিত তালিকা টাঙাতে হবে পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিসে। 

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। ঠিক কী সওয়াল-জবাব হয়েছে? রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানিতে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর বক্তব্য, ''শুনানিকেন্দ্রের সংখ্যা অতি কম, ১৯০০-র বদলে ৩০০ মাত্র। বিএলও সংখ্যা শূন্য, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দেখুন লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি বলতে কী বলা হচ্ছে। ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের ফারাককেও এর মধ্যে ধরা হচ্ছে। সকলের নাম ভোটার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। আমাদের দাবি, কারা কেন শুনানির নোটিস পাচ্ছে এবং করে শুনানি, তার বিস্তারিত তালিকা টাঙানো হোক।'' বানানের সামান্য হেরফেরেও শুনানিতে তলব করা হচ্ছে, সেকথা উল্লেখ করে সিব্বলের সওয়াল, ''Ganguli, Dutta বানানগুলো নানাভাবে লেখা যায়। অথচ তার জন্য শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। নামের বানান মিলিয়ে দেখে তাঁদের বাদ দেওয়া উচিত।'' 

সিব্বলের বিরোধিতা করে কমিশনের তরফে বর্ষীয়ান আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদীর বক্তব্য, অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে ১৫ বছরের কম ফারাক থাকলে তাঁদের ডাকা হচ্ছে। তখনই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, ''মা ও সন্তানের বয়স ১৫ বছরের ফারাক কীভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি হতে পারে? আমরা এমন দেশ বাস করি না, যেখানে বাল্যবিবাহ প্রথা উঠে গিয়েছে।'' এছাড়া শুনানিকেন্দ্রের প্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। এ প্রসঙ্গে এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার সময় ভোটাররা চাইলে যে কোনও একজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। তিনি যদি বিএলএ হন, তাতেও আপত্তির কিছু নেই। অর্থাৎ এবার শুনানিতে থাকার অনুমতি পেলেন বিএলএরা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement