প্রণব সরকার, আগরতলা: দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ ত্রিপুরা। উনকোটি এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ। ভাঙা হল বাড়ি-দোকান। আহত একাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পুজোর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই ত্রিপুরার উনকোটি ও ফটিকরায় এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংখ্যালঘুদের একের পর এক বাড়ি, দোকান ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে একদল উন্মত্ত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, শনিবার সকালে একদল দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবেই এলাকায় হামলা চালায়। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি কাঠের দোকান-সহ একাধিক বাড়ির সামনে রাখা খড়ের গাদা। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েকজন নিরীহ গ্রামবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। টিএসআর, সিআরপিএফ ও অসম রাইফেলসের জওয়ানরা এলাকা ঘিরে ফেলে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে বাধ্য হয়ে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। একইসঙ্গে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে চলছে কড়া নজরদারি।
জ্বলছে ত্রিপুরার উনকোটি এলাকা। নিজস্ব চিত্র।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, পুজোর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করেই এই হিংসার সূত্রপাত। এক গাড়িচালকের কাছে পূজোর চাঁদা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। এরপরই শুরু হয় বাকবিতণ্ডা, যা দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়— অগ্নিসংযোগ, মারপিট ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই গোষ্ঠী। প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এলাকার পরিবেশ এখনও থমথমে। শান্তি বজায় রাখতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক রং লাগিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।
জ্বলছে ত্রিপুরার উনকোটি এলাকা। নিজস্ব চিত্র।
গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। যদিও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উনকোটি জেলার জেলাশাসক তমাল মজুমদার ও উনকোটি জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোটা এলাকায় ১৬৩ ধারা ও কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও হাতের বাইরে না যায় সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে উনকোটি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত উনকোটি জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানান,"কিছু দুষ্কৃতী এলাকায় ঢুকে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগায়। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী যা যা প্রয়োজন, পুলিশ তাই করেছে।”
