গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার নিম্নমুখী শেয়ার বাজার। হু হু করে পড়েছে সেনসেক্স এবং নিফটির সূচক। বাজেট ঘোষণার পর বাজারে স্বস্তি ফিরবে, এই আশায় রবিবারও খোলা ছিল বাজার। কিন্তু আশার আলো তো দূর, দালাল স্ট্রিটে রক্তক্ষরণ আরও বাড়ল। বাজেট ভাষণ শেষ হতেই ১৬০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল সেনসেক্স। তারপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও দিনের শেষে বিনিয়োগকারীদের আদৌ লাভ হবে কিনা, প্রশ্ন থাকছেই।
রবিবার বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ঘোষণা করেন, ০.০২ শতাংশ থেকে এসটিটি বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ। এসটিটি অর্থাৎ সিকিয়োরিটিস ট্রানজাকশন ট্যাক্স কার্যকর হয় স্টক কেনাবেচার ক্ষেত্রে। মিউচুয়াল ফান্ড-সহ নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগেই কার্যকর হয় এই কর। একলাফে কর বেশ খানিকটা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের পরিমাণ কমতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই হু হু করে কমতে থাকে সেনসেক্স এবং নিফটি।
সাড়ে বারোটা নাগাদ বাজেট ভাষণ শেষ হতেই ১৬০০ পয়েন্ট পড়ে যায় সেনসেক্সের সূচক। ৪৮১ পয়েন্ট পড়ে যায় নিফটিও। বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশই মনে করছেন, এসটিটি বেড়ে যাওয়ার ফলে লগ্নি করার উৎসাহ হারাবেন আমজনতা। এছাড়াও ক্যাপিটাল গেনের উপর বাইব্যাক ট্যাক্স বসানোরও ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তারপর থেকেই শেয়ার বাজারে হু হু করে পতন। কিছুটা সময় ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও দালাল স্ট্রিটে রক্তক্ষরণ অব্যাহত। একটা সময়ে অন্তত ৭০০ পয়েন্ট ফিরে পেয়েছিল সেনসেক্স। কিন্তু সেই লাভটুকুও হাতছাড়া হয়েছে।
জয়রাম রমেশ বলেন, মূলধনী খাতে এতটাই কম ব্যয় করছেন নির্মলা, সেটা দিশাহীন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী জয়রাম রমেশের মন্তব্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে, কেন হতাশ লগ্নিকারীরা। প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য লগ্নিতে কিছু সুবিধা দেওয়ার ফলে শেয়ার বাজার চাঙ্গা হবে বলে অনেকে আশা করেছিলেন। কিন্তু করের ঘোষণাতেই যাবতীয় আশার সলিলসমাধি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, হাজার পয়েন্টেরও বেশি পতন হয়েছে সেনসেক্সে। গত কয়েকদিনের মতোই দালাল স্ট্রিটের রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকল বাজেট পেশের দিনও।
