নির্বাচনের আগে ফর্ম ৬ নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি! মঙ্গলবারের পর আজ, বুধবারও সকাল থেকে কলকাতার সিইও দপ্তরের সামনে রয়েছে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের জমায়েত। এর মধ্যেই ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ জানাল রাজ্য। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ফের শুরু হয়েছে এসআইআর মামলার শুনানি (SIR Case Hearing)। সেই শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, ''চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে। বিচারাধীন থাকা নামের নিষ্পত্তির কাজ চলছে। সেই সময় কমিশনে কীভাবে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে।'' যদিও এক্ষেত্রে কমিশনের পালটা যুক্তি, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যায়। আর তা আইন মেনেই সম্ভব। শুধু তাই নয়, ফর্ম ৬ যে কেউ জমা দিতে পারে বলেও দাবি কমিশনের। দীর্ঘ শুনানি শেষে এদিনের মতো এসআইআর মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল ফের এই মামলার শুনানি হবে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, ''চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে। বিচারাধীন থাকা নামের নিষ্পত্তির কাজ চলছে। সেই সময় কমিশনে কীভাবে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে।''
এদিন মামলার শুনানিতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ একজন ব্যক্তিই জমা দিচ্ছেন। তা কীভাবে সম্ভব? যদিও এক্ষেত্রে আইনের বেশ কিছু ধারা উল্লেখ করে কমিশনের আরও যুক্তি, ফর্ম ৬ জমা দেওয়া একটি চলমান পদ্ধতি। যে কেউ চাইলেই তা জমা দিতে পারেন। তবে তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের। শুনানিতে অনুচ্ছেদের একটি অংশকে তুলে ধরে কমিশনের আইনজীবীর আরও যুক্তি, এক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর বিধানও রয়েছে। সেক্ষেত্রে ফর্ম ৭ জমা দিতে পারেন বলে দাবি আইনজীবীর।
দুপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে যাওয়ার পর একটা ভোটার তালিকা মেনে ভোট হয়। এরপর ফর্ম ৬ মেনে নাম উঠলেই ভোট দিতে পারবেন এমন নয়। শুধু তাই নয়, এবারের নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে না পারলে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে তা নয় বলেও পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম ঢোকানো হচ্ছে। এই অভিযোগ জানিয়ে গত কয়েকদিন আগেই কলকাতায় সিইও দপ্তরে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে। এমনকী বিহার-উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
